সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে জ্বালানির বাজারে লাগামছাড়া দাম, আর সেই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। পেট্রোলের উপর নির্ভরতা কমাতে এবং বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল ব্লেন্ডিং (Ethanol Blending) বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে ২০ শতাংশ থাকা ইথানলের মাত্রা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ইরান (Iran) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) -এর সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের উপর। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র বিকল্প হিসেবে জৈব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
আরও পড়ুন : Priyanka Nick Relationship | নিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ? গুঞ্জনে সরাসরি জবাব প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার
ইথানল ব্লেন্ডিং বলতে পেট্রোলের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইথানল মেশানো বোঝায়। এই ইথানল সাধারণত আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হয়। এটি একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশের উপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। সহজভাবে বলতে গেলে, ‘পেট্রোলের সঙ্গে অ্যালকোহল মিশিয়েই গাড়ি চালানো’ এই ধারণাটিকেই বাস্তবে প্রয়োগ করছে সরকার। সরকারি স্তরে আগে থেকেই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন সেই সীমা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পর্যায়ক্রমে ইথানলের অনুপাত বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’ এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভারত জ্বালানি আমদানির খরচ কমাতে সক্ষম হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল ক্রুড তেল সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে। এই সাশ্রয় শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এই প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণের দিকে এগোতে চাইছে সরকার। এই পরিবর্তন রাতারাতি কার্যকর হবে না। ধাপে ধাপে এই ব্লেন্ডিং বাড়ানো হবে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ, এখনও অনেক গাড়ি ও বাইকের মালিক ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে পুরনো ইঞ্জিনে এর প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণে বাজার ও ব্যবহারকারীদের প্রস্তুতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও ইতিমধ্যে ইথানল-সহনশীল ইঞ্জিন তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে। নতুন মডেলের অনেক যানবাহনেই উচ্চ মাত্রার ইথানল ব্যবহারের উপযোগিতা রাখা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। পরিবেশের দিক থেকেও ইথানল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় এটি কম দূষণ সৃষ্টি করে। ফলে বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। শহরাঞ্চলে বায়ুর মান উন্নত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইথানল উৎপাদনের জন্য আখ ও ভুট্টার মতো ফসলের চাহিদা বাড়বে। ফলে কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। তবে এর সঙ্গে খাদ্যশস্যের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা যত বাড়ছে, ততই বিকল্প শক্তির গুরুত্ব সামনে আসছে। ভারত ইতিমধ্যেই সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ইথানল ব্লেন্ডিং সেই ধারারই একটি অংশ, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে পারে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিবহন খরচ কমতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাজারদরে। যদিও তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের উপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে জ্বালানি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রোলের বিকল্প হিসেবে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার দিকেও এগোনো সম্ভব হবে। আগামী দিনে এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা তা গ্রহণ করেন, সেটাই এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এটা পরিষ্কার, জ্বালানির ভবিষ্যৎ বদলের পথে ভারত এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : FMCG price hike India | সাবান-বিস্কুট থেকে চা-কফি, সবকিছুর দামে আগুন! মুদ্রাস্ফীতির চাপে নিত্যপণ্যে বড় মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত



