প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: আধুনিক জীবনের দৌড়ঝাঁপে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন অনেক সময়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। কাজের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক ক্লান্তি মিলিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও সমাজে অস্বস্তি ও চুপচাপ থাকার প্রবণতা রয়েছে। অথচ চিকিৎসা ও গবেষণার নানা তথ্য বলছে, যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা শরীর ও মনের উপর নানা প্রভাব ফেলে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে শারীরিক মিলনের ভূমিকা অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন যদি সেই ঘনিষ্ঠতা না থাকে, তাহলে তার প্রভাব শরীরে কীভাবে পড়ে, তা নিয়ে নানা গবেষণায় উঠে এসেছে কিছু উল্লেখযোগ্য দিক। অনেকেই মনে করেন যৌনতা শুধুই শারীরিক আনন্দের বিষয়, কিন্তু বাস্তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হরমোন, রক্ত সঞ্চালন, মানসিক ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকলে নারীদের যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে যৌন উত্তেজনার মাত্রা হ্রাস পেতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে যোনির শুষ্কতা দেখা দেয়, যার ফলে পরবর্তী সময়ে সহবাসের সময় অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসা মহলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ‘দীর্ঘ বিরতির পর যৌন মিলনে অস্বস্তির অভিজ্ঞতা অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই দেখা যায়।’ পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই বিরতির প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘদিন সঙ্গম না হলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা ‘পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি’ হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি লিঙ্গের স্বাভাবিক দৃঢ়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও এই সমস্যাগুলি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবুও দীর্ঘ বিরতির সঙ্গে এর সম্পর্কের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।যৌন মিলনের সময় শরীরে এন্ডোরফিন (Endorphin) নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ঋতুস্রাবের সময় হওয়া পেটব্যথা বা ক্র্যাম্প কমাতেও ভূমিকা রাখে। ফলে দীর্ঘদিন যৌন সম্পর্ক না থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘যৌন কার্যকলাপের সময় শরীরে কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।’
হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও যৌনতার ভূমিকা রয়েছে। ইস্ট্রোজেন (Estrogen) ও প্রোজেস্টেরন (Progesterone)-এর মতো হরমোনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সহায়ক হতে পারে। এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন যৌন মিলন থেকে দূরে থাকলে শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলিও নজরে রাখা প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেও যৌনতার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত যৌন মিলনের ফলে শরীরে ‘ইমিউনোগ্লোবিউলিন এ’ (Immunoglobulin A) -এর মাত্রা বাড়ে, যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সঙ্গম না হলে এই উপাদানের মাত্রা কমে যেতে পারে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘুমের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা যায়। যৌন মিলনের পর শরীরে যে হরমোন নিঃসৃত হয়, তা ঘুমের গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘদিন এই অভ্যাস না থাকলে ঘুমের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। অনিদ্রা বা অস্থির ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।
মানসিক দিক থেকেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা না থাকলে অনেক সময় আবেগের দূরত্ব তৈরি হতে পারে। দম্পতিদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রত্যেক সম্পর্কের ধরন আলাদা, তবুও শারীরিক ও মানসিক সংযোগ একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তবে এই সমস্ত তথ্যের পাশাপাশি একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা এবং জীবনযাপনের ধরনও ভিন্ন। তাই এই প্রভাবগুলির তীব্রতা সবার ক্ষেত্রে একরকম হবে না। তবুও শরীরের স্বাভাবিক চাহিদা এবং তার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, সমাজে যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখনও অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে এই বিষয়গুলি জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরের পরিবর্তন বোঝা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, এই অভ্যাসগুলি সুস্থ জীবনের জন্য সহায়ক হতে পারে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Female associate professor of medical college physically assaulted : চলন্ত ট্রেনে অধ্যাপিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক



