সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমে নারী ক্ষমতায়নকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) জানান, বজালী বিধানসভা সমষ্টিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যমিতা অভিযান’ -এর আওতায় ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিনেই মোট ২৮,৮০৫ জন উপভোক্তার হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে জানান, এই ২৮,৮০৫ জন উপভোক্তার মধ্যে ২৬,৩২৫ জন গ্রামাঞ্চলের মহিলা এবং ২,৪৮০ জন নগরাঞ্চলের বাসিন্দা। অর্থাৎ গ্রামবাংলার মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বজালী বিধানসভা সমষ্টিতে আজ মোট ২৮,৮০৫ জন উপভোক্তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যমিতা অভিযানের আওতায় ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান কর্মসূচির শুভ সূচনা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত’। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পকে কেবল একটি আর্থিক সহায়তা হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই দেখছে। ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যমিতা অভিযান’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাঁদের নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করার সুযোগ করে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বিশ্বাস করেন, আর্থিক স্বাধীনতা পেলেই সমাজে মহিলাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। তিনি লেখেন, ‘মহিলাদের উদ্যোগী করে তোলার লক্ষ্যে শুরু করা এই অভিযানের ফলে আমাদের বোনেরা, ভগ্নীরা ও মায়েরা শুধু স্বনির্ভরই হবেন না, বরং সমাজে এক আদর্শ হিসেবেও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারবেন’।

বজালী অঞ্চলে এই কর্মসূচী ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। উপভোক্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, এই ১০ হাজার টাকার চেক তাঁদের ছোট ব্যবসা শুরু করতে বড় ভরসা জোগাবে। কেউ গবাদি পশু পালনের পরিকল্পনা করছেন, কেউ আবার সেলাই, ক্ষুদ্র দোকান কিংবা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার কথা ভাবছেন। গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের কাছে এই আর্থিক সহায়তা যেন আত্মবিশ্বাসের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শুধুমাত্র এককালীন সাহায্য নয়। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা শেখানোর মতো বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের মতে, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ফলে পরিবারের আর্থিক সিদ্ধান্তেও তাঁদের ভূমিকা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ভারসাম্য গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। শাসক দলের নেতারা বলছেন, বিজেপি সরকার বরাবরই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতে বিশ্বাসী এবং মহিলা উন্নয়ন তারই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, এই আর্থিক সহায়তা কতটা দীর্ঘস্থায়ী সুফল দেবে। তবে সাধারণ উপভোক্তাদের মধ্যে সেই বিতর্কের প্রভাব খুব একটা নেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা -এর (Himanta Biswa Sarma) এই ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে ‘গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়নের দিশা’ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে অসমের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহিলাদের হাতে সরাসরি নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানও তৈরি করে। বজালীর মতো অঞ্চলে এই প্রকল্পের প্রভাব আগামী কয়েক বছরে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য যে, বজালী বিধানসভা সমষ্টিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যমিতা অভিযান’ -এর সূচনা অসমে নারী ক্ষমতায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, রাজ্য সরকার মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে। এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত বজালীর হাজার হাজার মহিলার চোখে স্বপ্নের নতুন আলো জ্বলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam Politics, BJP News | অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কৌশলগত চমক, নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, এনডিএর তৃতীয় জয়ের আশায় দল



