সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিশ্বকাপ মানেই গোলের উৎসব, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সোনার বুটের লড়াই। গত আসরে ফাইনাল পর্যন্ত জমেছিল দ্বৈরথ লিয়োনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) -এর মধ্যে। শেষ পর্যন্ত আট গোল করে সবার ওপরে উঠেছিলেন এমবাপে। এবারও কি সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে? না কি নতুন কোনও নাম উঠে আসবে গোলের শীর্ষে? ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন। যদিও মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এখনও বিশ্বমঞ্চে আকর্ষণের কেন্দ্র, তবু তাঁদের ভূমিকা শুধুমাত্র স্ট্রাইকারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা যেমন গোল করেন, তেমনই দলকে তৈরি করেন। ফলে খাঁটি স্ট্রাইকারদের তালিকায় উঠে আসছে নতুন প্রজন্মের তারকারা, যাঁদের পায়ের জাদুতেই নির্ধারিত হতে পারে বিশ্বকাপের গোলদৌড়।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। মাত্র ১৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ১২টি গোল। পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কতটা ধারাবাহিক। গত বিশ্বকাপে একাই আট গোল করে সোনার বুট জিতেছিলেন। আর মাত্র কয়েকটি গোল করলেই জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে (Miroslav Klose) -এর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। টানা দু’বার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমবাপের। তাই ফ্রান্সকে আবার শিরোপার লড়াইয়ে তুলতে হলে তাঁর গোল করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, এই বিশ্বকাপে অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland)। এটাই তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ। তবে ক্লাব ফুটবলে তিনি ইতিমধ্যেই ‘গোল মেশিন’ নামে পরিচিত। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি (Manchester City) -এর হয়ে তাঁর গোল করার ক্ষমতা বহুবার ম্যাচের রং বদলে দিয়েছে। বক্সের মধ্যে তাঁর উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক। গ্রুপ পর্যায়েই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে এমবাপে বনাম হালান্ড দ্বৈরথ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারে। ইংল্যান্ডের ভরসা হ্যারি কেন (Harry Kane)। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ছয় গোল করে সোনার বুট জিতেছিলেন তিনি। যদিও গতবার তাঁর পারফরম্যান্স সেই উচ্চতায় পৌঁছয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করার স্মৃতি এখনও তাড়া করে। তবে সাম্প্রতিক ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক গোল করে তিনি আবার নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন। ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে তাঁর উপরেই নির্ভর করছে দল।
আর্জেন্টিনার তরুণ মুখ ইউলিয়ান আলভারেজ় (Julian Alvarez) গত বিশ্বকাপেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেছিলেন। মেসির মতো তারকার উপস্থিতির মধ্যেও চার গোল করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে। এবার তিনি আরও অভিজ্ঞ, আরও আত্মবিশ্বাসী। মেসির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের দায়িত্ব আরও বেশি করে নিতে হতে পারে আলভারেজ়কে। কোচ লিয়োনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) -এর পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে চোখ থাকবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior) -এর দিকে। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ জয়ের খরা কাটাতে মরিয়া ব্রাজ়িল। সেই লক্ষ্যে ভিনিসিয়াসের গতিই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) -এর হয়ে ক্লাব ফুটবলে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি। দ্রুতগতিতে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করার ক্ষমতা তাঁকে ভয়ঙ্কর করে তোলে। যদিও বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত তাঁর গোল সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নামবেন। বিশ্বকাপে গোল করার লড়াই কখনওই একমুখী হয় না। প্রতিটি দলের কৌশল, প্রতিপক্ষের শক্তি, ম্যাচের পরিস্থিতি, সব কিছু মিলিয়ে তৈরি হয় গোলদৌড়ের ছবি। এমবাপে যেমন অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার জায়গায় এগিয়ে, তেমনই হালান্ড নতুন চমক দিতে পারেন। কেনের স্থিরতা, আলভারেজ়ের উদ্যম এবং ভিনিসিয়াসের গতি, এই পাঁচজনই আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত। এবারের বিশ্বকাপে গোলের দৌড়ে কে এগিয়ে যাবেন, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, এই পাঁচ স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সই অনেকটাই নির্ধারণ করবে তাঁদের দলের ভাগ্য। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন, কার পায়ে সবচেয়ে বেশি গোলের ঝলক দেখা যাবে এবং কে শেষ পর্যন্ত সোনার বুট জিতে ইতিহাসে নাম লেখাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Zidane France coach | ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ফিরছেন জিদান, ২৮ বছর পর নতুন ভূমিকায় জিজু



