সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। নির্বাচনী কৌশল ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের জাতীয় উপ-সভাপতি বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডাকে (Baijayant Jay Panda) অসম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর এই দায়িত্বপ্রাপ্তি ঘিরে বিজেপি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (National Democratic Alliance) অন্দরমহলে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি অসমের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে আরও মজবুত অবস্থানে পৌঁছে দেবে। বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, পাণ্ডার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় এনডিএ অসমে জনসাধারণের সেবার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে সক্ষম হবে। বিজেপি সূত্রে খবর, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডাকে নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ। ওড়িশা (Odisha) রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই নেতা জাতীয় স্তরে বিজেপির সংগঠনকে একাধিক নির্বাচনে শক্ত ভিত গড়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের জটিল সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে পাণ্ডার অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। অসমে নাগরিকত্ব, উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং জাতীয় নিরাপত্তা, এই সব ইস্যুতে বিজেপি যে বার্তা দিতে চাইছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পাণ্ডার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শুধু বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডাই নন, অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও নির্বাচনী সহ-তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দর্শনা জারডোস (Darshana Jardosh) এবং বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মা (Sunil Kumar Sharma) এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁদের নিয়োগকেও বিজেপি নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক ও সহ-তত্ত্বাবধায়কদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসমে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দর্শনা জারডোসের সংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। অন্যদিকে, সুনীল কুমার শর্মার স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক স্তরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মাঠপর্যায়ে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই তিনজনের সমন্বয়ে অসমে বিজেপির নির্বাচনী রণকৌশল আরও ধারালো হবে।’
অসমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ইতিমধ্যেই উন্নয়নমূলক নানা প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে বলে দাবি করছে দল। পরিকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বিজেপি প্রচারে নামতে চলেছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধের মতো বিষয়গুলিও নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডার মতো জাতীয় স্তরের নেতাকে নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, অসম তাদের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির রাজনৈতিক বিস্তারের ক্ষেত্রে অসম বরাবরই ‘গেটওয়ে’ হিসেবে বিবেচিত। তাই এখানে তৃতীয়বার ক্ষমতা দখল করা শুধু রাজ্য রাজনীতির নিরিখে নয়, জাতীয় রাজনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপির একাংশের মতে, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডার নেতৃত্বে নির্বাচনী পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত হবে এবং বিরোধীদের আক্রমণের মোকাবিলায় বিজেপি আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পারবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও বিজেপির এই নিয়োগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে অসমের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির এই সাংগঠনিক রদবদল যে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই যায়। বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, দর্শনা জারডোস এবং সুনীল কুমার শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ও এনডিএ যে তৃতীয়বারের জন্য অসমে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam CM Himanta Biswa Sarma Pays Tribute to 860 Martyrs of Assam Movement | অসম আন্দোলনের ৮৬০ শহিদকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তর বার্তা: ‘জাতি-মাটি-ভেটি রক্ষার শপথ আজও অটুট’



