Assam CM Himanta Biswa Sarma Pays Tribute to 860 Martyrs of Assam Movement | অসম আন্দোলনের ৮৬০ শহিদকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তর বার্তা: ‘জাতি-মাটি-ভেটি রক্ষার শপথ আজও অটুট’

SHARE:

গোয়ালপাড়ার পবিত্র দ’দান থানে জনজাতীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ বিভাগ চালু করল অসম সরকার। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ও উন্নয়ন উদ্যোগ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসম আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার এক আবেগঘন বার্তা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। সমাজমাধ্যমে লেখা দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানালেন, মাতৃভূমির পরিচয়, ভাষা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই ৮৬০ জন শহিদের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাঁর কথায়, “অসমের নিরাপত্তা ও জাতিগত পরিচয় রক্ষায় নিজেদের জীবনকেও তুচ্ছ করেছিলেন যাঁরা, তাঁদের প্রতি আমরা চিরঋণী।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য মতে, অসম আন্দোলন কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায় নয়, বরং এটি অসমীয়া পরিচয়ের অস্তিত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনের সময়ে মৌলিক অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তোলার অপরাধেই কংগ্রেস সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নির্মম দমননীতি চালিয়েছিল। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, “পরিচয় রক্ষার অধিকার চাওয়ায় অসমীয়া মা-মাটির সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।”

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ইতিহাসের নানা নথিও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অনুপ্রবেশ সমস্যার শেকড় বহু পুরনো। স্বাধীনতার আগেই পূর্ববঙ্গ এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে অবৈধ প্রব্রজনের ঢল অসমের জন-গঠনে বড় পরিবর্তন আনে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উল্লেখ করেন, ১৯৪০-এর দশকে ভারতের তৎকালীন গবর্নর জেনারেল লর্ড ওয়াভেল (Lord Wavell) পর্যন্ত তাঁর লেখায় এই বিশাল অনুপ্রবেশের কথা তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে সৈয়দ সাদুল্লাও (Syed Sadulla) সেই সময় এই অনুপ্রবেশকে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।এমনকী ১৯৩১ সালের জনগণনা কমিশনার সেসময়ই সতর্ক করেছিলেন যে জনসংখ্যার দ্রুত পরিবর্তন চলতে থাকলে অসমীয়া সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ হয়ত কেবল শিবসাগরেই দেখা যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণগুলিই প্রমাণ করে যে অনুপ্রবেশবিরোধী আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য ও অপরিহার্য।

এদিন কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর কথায়, বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রীতিমতো উৎসাহ দিয়েছে, অথচ শহিদদের প্রতি শুধু আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে তাঁদের আত্মবলিদানের প্রতি অপমান।
তিনি লেখেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার অসমবাসীর ভয় ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা সীমান্ত সিল করেছি, অনুপ্রবেশের রুট শনাক্ত করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বন্ধ করছি।” এছাড়া অসম চুক্তির (Assam Accord) ৬ নম্বর ধারার বাস্তবায়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খিলঞ্জিয়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য পৃথক হেরিটেজ বেল্ট ও ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। সত্ৰগুলির নিরাপত্তায় সত্ৰ কমিশন গঠন, স্থানীয় ভাষার বিকাশ এবং অসমিয়া ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ-সবই শহীদদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “৮৬০ শহীদের প্রতি আমাদের এই প্রয়াসই প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। জাতি, মাটি ও ভেটি রক্ষার লড়াই অসমের অস্তিত্বের লড়াই।” বুধবার গুয়াহাটিতে (Guwahati) মহান শহীদ স্মারক ক্ষেত্র উদ্বোধনের প্রসঙ্গেও বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “এই স্মারক ক্ষেত্র বীর শহীদদের অবিনশ্বর সাহসের প্রতীক, এবং অসমীয় শক্তির কালজয়ী স্মৃতি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাঁদের স্বপ্নের বিকশিত ও সুরক্ষিত অসম গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” অসমের রাজনৈতিক আবহে শহিদ স্মরণ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের মত। অনুপ্রবেশ ইস্যু, সাংস্কৃতিক সুরক্ষা ও পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল এই পোস্ট।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sharma statement | সংবিধান দিবসে বড়ো ভাষায় সংবিধান প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্যোগে উচ্ছ্বাসে অসম, কৃতজ্ঞতা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

Sasraya News
Author: Sasraya News