MGNREGA fund West Bengal, Abhishek Banerjee on fund freeze | বাংলার ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ শূন্য: অভিষেকের প্রশ্নে প্রকাশ্যে এলো বঞ্চনার স্বীকারোক্তি

SHARE:

২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) -এর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন, ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ হারান। গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সংকট চরমে ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হয়।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বহুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ, মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (MGNREGA) -এর অর্থ বকেয়া রেখে কেন্দ্র বঞ্চনা করছে। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তি আরও দৃঢ় হল সংসদেই। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র নিজেই স্বীকার করল, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গকে ১০০ দিনের কাজের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। বরাদ্দ শূন্যই রয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে জানতে চান ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১০০ দিনের কাজের অধীনে কোনও কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রে কত টাকা বকেয়া রয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হোক। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী কমলেশ পায়োয়ান (Kamlesh Paiwan) তাঁর লিখিত জবাবে জানান, দেশের সমস্ত রাজ্যের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ, যাদের বরাদ্দ সম্পূর্ণ শূন্য। শুধু ২০২৪-২৫ নয়, ২০২২ সালের পর থেকে এই প্রকল্পে বাংলাকে আর কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্র নির্ধারিত একাধিক গাইডলাইন মানেনি। শ্রম দিবস সংক্রান্ত তথ্য আপলোড, কাজের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নিরীক্ষা ও সংশোধন, অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়াসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা বারে বারে লঙ্ঘন করা হয়েছে। কমলেশ পায়োয়ান চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিশেষ কমিটির পর্যালোচনাতেই দেখা গিয়েছে, নিয়মভঙ্গের কারণে কেন্দ্র অর্থ ছাড়েনি এবং সিদ্ধান্ত অনুসারে বরাদ্দ স্থগিতই রয়েছে।এই তথ্য সংসদে প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে এর আগেও বহুবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ বিরোধী মনোভাবের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বকেয়া টাকা নিয়ে তীব্র আন্দোলন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে ধর্ণায় বসে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্র রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে টাকা দিচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার (Joyprakash Majumdar) বলেন, “এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। হাইকোর্টে কেন্দ্র হেরেছে, সুপ্রিম কোর্টেও হেরেছে। নির্দেশ স্পষ্ট, কাজ শুরু করতে হবে, টাকা দিতেই হবে। অথচ কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এখনও এমন বক্তব্য দিচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী।” তাঁর দাবি, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলা সরকারকে বঞ্চিত করছে এবং এর প্রভাব পড়ছে কোটি মানুষের জীবিকার ওপর। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের একশো দিনের প্রকল্পের সমস্ত বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। আদালতের মন্তব্যে বলা হয়েছিল, প্রকল্পের সুবিধা যাতে কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে আটকে না যায়, তার দায় সরকারেরই। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, অচিরেই কেন্দ্র বকেয়া পরিষদের পথে হাঁটবে। যদিও বাস্তবে পরিস্থিতি একেবারে উল্টো।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় তথ্য প্রকাশের পর তৃণমূল অবশ্যই এই ইস্যু আবার বড় করে তুলবে। দলে দলে গ্রাম বাংলায় যেখানে বহু মানুষ এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে টাকা বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রভাব ফেলবে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় স্তরেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতে আরও তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা যাবে।

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) কেন্দ্রকে সমর্থন করে বলেন, “আমাদের বরাদ্দ শূন্য, কারণ বাংলা চুরি করেছে।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রের কাছে প্রচুর অভিযোগ জমা রয়েছে এবং প্রকল্পে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় অর্থ রোকাই সঠিক সিদ্ধান্ত।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট, কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষত গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি। কারণ একশো দিনের কাজ পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলের লাখ লাখ শ্রমিকের রুজি-রুটির প্রধান সহায়ক। বরাদ্দ বন্ধ থাকায় অনেক এলাকায় কাজ বন্ধ, কারও কারও পাওনা আটকে আছে দীর্ঘদিন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ করছে। আবার বিজেপি বলছে, দুর্নীতি রুখতেই কেন্দ্রীয় কঠোরতা। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মাঝে আটকে আছে বাংলার গ্রামাঞ্চল। তবে যে-ই যা বলুক, সংসদের তথ্য এখন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ১০০ দিনের কাজে বাংলার বরাদ্দ সত্যিই শূন্য।

যা নিয়ে আগামী দিনে আরও তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হবে, তা বলাই যায়। এবং তার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক, এই দ্বন্দ্বই আগামী কয়েক মাসে বাংলার রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : MGNREGA West Bengal, 100 days job restart | সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের চালু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ১০০ দিনের কাজ, নবান্নে জোর তৎপরতা

Sasraya News
Author: Sasraya News