MGNREGA West Bengal, 100 days job restart | সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের চালু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ১০০ দিনের কাজ, নবান্নে জোর তৎপরতা

SHARE:

২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) -এর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন, ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ হারান। গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সংকট চরমে ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হয়।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : তিন বছর পর আবারও আশার আলো দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ শ্রমিকদের চোখে। বহু প্রতীক্ষিত ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প (MGNREGA – Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act) ফের চালু হতে চলেছে রাজ্যে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে এই প্রকল্প পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, দ্রুত জব কার্ড হোল্ডারদের (Job Card Holders)** তথ্য যাচাই ও ই-কেওয়াইসি (e-KYC) আপডেটের কাজ সম্পন্ন করতে।রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “আদালতের রায়ের পর আমরা তৎপর হয়ে উঠেছি। প্রতিটি জেলায় ডেটা যাচাই ও ই-কেওয়াইসি আপলোডের কাজ চলছে জোর গতিতে। খুব শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।” রাজ্যে বর্তমানে ২ কোটি ৫৬ লক্ষেরও বেশি জব কার্ড হোল্ডার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগেরই আধার নম্বর যুক্ত থাকলেও, ই-কেওয়াইসি আপলোডের সময় অনেক জেলায় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ছেন আধিকারিকরা। নবান্ন সূত্রে খবর, সার্ভার বারবার ডাউন হওয়ায় ডেটা আপডেটের কাজ ধীরগতিতে চলছে। তবে কর্মকর্তাদের আশ্বাস, “এই সমস্যা সাময়িক। একসঙ্গে বহু ডেটা আপলোডের কারণে চাপ পড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।”

২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) -এর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন, ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ হারান। গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সংকট চরমে ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হয়।
একশো দিনের কাজ। ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) -এর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় রাজ্যে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন, ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ হারান। গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সংকট চরমে ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হয়। গত ১৮ জুন কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) জানায়, কোনও সরকার বা সংস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধরনের কর্মসূচি বন্ধ রাখতে পারে না। হাইকোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়কেই নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট শর্ত মেনে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে হবে।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আপিল করে। কিন্তু ২৭ অক্টোবর, দেশের সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল স্পষ্ট, “আমরা মনে করি না যে হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে।” এই রায়ের পরই নবান্নে শুরু হয় তৎপরতা। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের (Rural Development Department) উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স (Task Force), যারা আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। সূত্রের খবর, প্রকল্পটি যেকোনও দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।

রাজ্যের এক আধিকারিক জানান, “এই প্রকল্প চালুর অপেক্ষায় বহু মানুষ। আদালতের নির্দেশ মেনে সরকার যত দ্রুত সম্ভব মাঠে নামবে।” উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে এই রায় পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র সুরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ (Giriraj Singh) -এর অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। এখন আদালতের এই রায়কে তৃণমূল শাসিত সরকার রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “এটি শুধু আদালতের রায় নয়, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে রাজ্যের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জয়।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আগে এই রায় তৃণমূলের জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। একদিকে কেন্দ্রকে ‘বঞ্চনার রাজনীতি’র অভিযোগে আক্রমণ করতে পারবে তৃণমূল, অন্যদিকে গ্রামীণ শ্রমিকদের মধ্যে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি মজবুত হবে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, “রাজ্য সরকার প্রকল্পে অনিয়ম করেছিল, তাই অর্থ বন্ধ হয়। আদালতের রায় মানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বচ্ছতার পক্ষে।” প্রসঙ্গত, আদালতের নির্দেশে ফের কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে চলেছে রাজ্যের গ্রামীণ পরিসরে। নবান্নের লক্ষ্য এখন একটাই, যত দ্রুত সম্ভব ১০০ দিনের কাজ শুরু করে শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া তাদের ন্যায্য মজুরি।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kerala High Court, Muslim Marriage Law | স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নথিভুক্ত নয়! মুসলিম বিবাহে ঐতিহাসিক রায় কেরল হাই কোর্টের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন