সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দেশের এভিয়েশন খাতে চলমান বিভ্রাট আরও গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইন্ডিগোর(IndiGo) একাধিক উড়ান বাতিল হওয়ায় বিমানযাত্রীদের দুশ্চিন্তা, ক্ষোভ ও ভোগান্তি নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বুধবারও বহু যাত্রীকে বাতিল বা বিলম্বিত উড়ানের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। যদিও বাতিল হওয়া উড়ানের সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবু পরিস্থিতি যে এখনও স্বাভাবিক হয়নি, তা পরিষ্কার। এই অবস্থায় এবার সরাসরি সংস্থার শীর্ষকর্তাকে তলব করল উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)। ডিজিসিএ জানায়, বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর দুপুরে ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সকে (Peter Elbers) হাজিরা দিতে হবে সংস্থার সদর দফতরে। শুধু উপস্থিতিই নয়, উড়ান বাতিল সংক্রান্ত যাবতীয় নথিও সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, পিটারের সঙ্গে ইন্ডিগোর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বৈঠকে থাকবেন।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দায়বদ্ধতা নির্ধারণে কেন্দ্রও চাপ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু (K. Ram Mohan Naidu) আগেই ইন্ডিগোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দায়িত্ব এড়াতে দেবে না সরকার। নায়ডু বলেন, “এখন শুধু একটি সংস্থার কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে তা-ই নয়, গোটা দেশের বিমান পরিষেবার উপর এর প্রভাব পড়ছে। তাই তদন্তের আওতায় থাকবে ইন্ডিগো-সহ ডিজিসিএ-ও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এজেন্সি কী করছে, তাও প্রশ্নের মুখে।” মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন পড়লে কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যদি পরিস্থিতি অনুসন্ধানে দেখা যায় সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে সিইও পিটারকে (Peter Elbers) বরখাস্ত করার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।” এই মন্তব্যের পরেই ডিজিসিএর সক্রিয় হয়ে ওঠা, বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চাপেরই প্রতিফলন।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কতটা গভীর হয়েছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বুধবার রাতেই নড়েচড়ে বসে ডিজিসিএ। জারি হয় বিশেষ নির্দেশ, দেশের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পাঠানো হবে আধিকারিকদের একটি টিম।
যে বিমানবন্দরগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে-
নাগপুর, জয়পুর, ভোপাল, সুরত, তিরুপতি, বিজয়ওয়াড়া, শিরডী, কোচি, লখনউ, অমৃতসর এবং দেহরাদূন।
উল্লেখ্য, ডিজিসিএ জানিয়েছে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আধিকারিকদের এই কাজ শেষ করতে হবে। এরপরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত-রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
তদন্তের মূল পয়েন্টগুলি-
* উড়ান বাতিলের সময় যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ কতটা নিয়মমাফিক হয়েছে
* বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেছে
* বোর্ডিং গেটগুলিতে যাত্রীদের তথ্য আপডেট দেওয়া হয়েছে কি না
* হেল্পডেস্কে পর্যাপ্ত স্টাফ উপস্থিত ছিলেন কি না
* যাত্রী নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা ঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না
একজন ডিজিসিএ আধিকারিকের কথায়, “বিমান সংস্থার সমস্যায় যাত্রীকে যেন বিপাকে পড়তে না হয়, এটিই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। তাই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে অবশ্য বারবার দাবি করা হচ্ছে, অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত সংকটের কারণে উড়ান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু যাত্রীদের যুক্তি, দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা, কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া এবং বারবার উড়ান বাতিল, এসব ব্যবস্থাপনা ত্রুটির পরিচয়ই দেয়।এ বিষয়ে বিমান বিশেষজ্ঞদের মত, ইন্ডিগোর মতো দেশের সবচেয়ে বড় বিমানসংস্থার ক্ষেত্রে এমন পূর্বপরিকল্পনার ঘাটতি উদ্বেগজনক। এক বিশেষজ্ঞের মতে, “যে সংস্থা প্রতিদিন শত শত উড়ান চালায়, তাদের হাতে অবশ্যই ‘ব্যাকআপ সিস্টেম’ থাকা জরুরি। সেই জায়গাতেই বড় ঘাটতি ধরা পড়ছে।”
গত কয়েক দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্ডিগো নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা গেছে। কোনও যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে শেষে বাতিলের খবর পেয়েছেন, কেউবা বাচ্চা নিয়ে মধ্যরাতে হেল্পডেস্কের সামনে আটকে থেকেছেন। অনেকেই যাত্রাপথ পরিবর্তন বা অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হয়েছেন। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই ডিজিসিএর সক্রিয় হওয়াকে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তির চোখেই দেখছেন। দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি তুলছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য যে, ইন্ডিগো ডিজিসিএ টানাপড়েনের এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও নাড়িয়ে দিতে পারে। এখন নজর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কী বলেন পিটার এলবার্স (Peter Elbers) এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IndiGo flight crisis | ইন্ডিগো বিপর্যয়ে স্তব্ধ দেশের আকাশপথ: হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রও




