সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : সংবিধান দিবসের বিশেষ আবহে অসমজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও গর্বের স্রোত। বড়ো ভাষায় ভারতীয় সংবিধানের আনুষ্ঠানিক প্রকাশকে কেন্দ্র করে আজ রাজ্যের রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখেও খুশির ঝলক স্পষ্ট। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) তাঁর ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানালেন, এই দিনটি কেবল সংবিধান দিবস নয়, বরং অসমবাসীর সাংবিধানিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়।
বড়ো ভাষায় সংবিধানের উন্মোচন দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বড়ো সমাজের। ভাষা–সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে এটি যে এক বড় পদক্ষেপ, তা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর পোস্টে লেখেন, “আজি আমাৰ বাবে এক অতি ভাল লগা খবৰ৷ ভাৰতৰ সংবিধান দিৱসৰ আজিৰ বিশেষ দিনটোত বড়ো ভাষাত আমাৰ সংবিধান উন্মোচনে মাননীয় প্ৰধানমন্ত্ৰী শ্ৰীনৰেন্দ্ৰ মোদী ডাঙৰীয়াৰ সাংবিধানিক মূল্যবোধক আৰু অধিক শক্তিশালী কৰাৰ সংকল্প প্ৰতিফলিত কৰিলে৷ সংবিধান দিৱসত বি টি আৰ তথা অসমবাসীলৈ এয়া এক উপযুক্ত উপহাৰ।” তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) সরাসরি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বড়ো সমাজের জন্য এটি “ঐতিহাসিক সম্মান”। তাঁর বক্তব্য, এটি শুধু সংবিধানের অনুবাদ নয়, বরং সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী প্রতীক, যা বিটিআর (Bodoland Territorial Region) -এ শান্তি ও উন্নয়নের পথ দৃঢ় করবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতের সংবিধান সাধারণ মানুষের অধিকার, কর্তব্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। এই পবিত্র দলিলটি যখন কোনও জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পৌঁছে যায়, তখন সেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংবিধানের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। বড়ো ভাষায় প্রকাশিত সংস্করণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সংবিধানকে সহজবোধ্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। অসমের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং বড়ো সমাজের নেতাদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, এই ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে অদ্ভুত উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অসংখ্য পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে যেখানে মানুষ তাঁদের মাতৃভাষায় সংবিধান পাওয়ার অনুভূতিকে ‘গৌরবের দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিটিআর অঞ্চলের বাসিন্দারা মনে করছেন, সংবিধান ভাষায় ভাষায় পৌঁছে যাওয়া কেবল সাংবিধানিক ন্যায্যতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে শিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বিশেষ করে বড়ো ভাষার ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতদিন তাঁরা নিজেদের ভাষায় সংবিধান অধ্যয়ন করতে পারতেন না। শিক্ষাবিদদের মতে, সংবিধানকে মাতৃভাষায় উপলব্ধ করা মানে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জ্ঞানকে মানুষের কাছে আরও সহজ করে পৌঁছে দেওয়া। তাঁদের মতে, বড়ো ভাষায় সংবিধান প্রকাশের ফলে সাংবিধানিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষও তাঁদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড়ো শান্তি চুক্তির পর এই উদ্যোগ কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত উন্নয়ন নীতির অংশ। বিটিআর অঞ্চলে গত কয়েক বছরে যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এই পদক্ষেপ তার ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করে। এলাকার মানুষ মনে করছেন, এই উদ্যোগ উন্নয়ন, শিক্ষা, ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অসমের রাজনৈতিক ময়দানেও এই সিদ্ধান্তকে ‘দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক আধিকারিক মন্তব্য করেন, “বড়ো সমাজের ভাষা-পরিচয়কে সম্মান জানানোর এই পদক্ষেপ শুধু ভাষাগত নয়, বরং সাংবিধানিক ন্যায়বোধের প্রতিফলন।” আজকের দিনটি যে বড়ো জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সংবিধানের এই নতুন ভাষা-সংস্করণ যেন ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাষায়, “এটি শুধু একটি বইয়ের প্রকাশই নয়, এটি সাংবিধানিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার এক দৃঢ় সংকল্প।” উল্লেখ্য যে, সংবিধান দিবসের বিশেষ দিনে বড়ো ভাষায় সংবিধান প্রকাশ ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। অসমের কোটি মানুষের মনে আজ একটাই অনুভূত-গর্ব, কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Khadi India’s participation at the 44th India International Trade Fair (IITF) 2025 highlights the strength of Khadi through the New Khadi of New India and a diverse range of products




