সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ভারতের সম্মান আরও এক ধাপ উঁচুতে উঠল। বুধবার রাতে ইথিওপিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ (Great Honour Nishan of Ethiopia) প্রদান করা হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi)। এই সম্মান পাওয়ার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইথিওপিয়ার মানুষ, সরকার এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি-এর (Abiy Ahmed Ali) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মোদী। তাঁর কথায়, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া ভারতের জন্য গর্বের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘গত সন্ধ্যায় আমাকে ‘গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ প্রদান করার জন্য ইথিওপিয়ার জনগণ, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশ্বের প্রাচীনতম ও সমৃদ্ধ সভ্যতাগুলির একটি দেশের কাছ থেকে সম্মানিত হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’ মোদীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।শুধু ব্যক্তিগত সম্মান হিসেবে নয়, এই পুরস্কারকে তিনি ভারত-ইথিওপিয়া সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই সম্মান তাঁর একার নয়, সেই অসংখ্য ভারতীয় নাগরিকের যাঁরা বছরের পর বছর ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এই সম্মান সেই সমস্ত ভারতীয়দের প্রাপ্য, যাঁরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন এবং আরও মজবুত করেছেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার মতো একটি প্রাচীন সভ্যতার দেশ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এই সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আফ্রিকার কৌশলগত মানচিত্রে ইথিওপিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরও রয়েছে আদ্দিস আবাবায়। ফলে এই সম্মান কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং ভারতের আফ্রিকা নীতির সাফল্যের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে ভারত গত এক দশকে আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি, একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছে। ইথিওপিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই ভারত সেখানে শিক্ষা, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি-এর (Abiy Ahmed Ali) সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এই সম্মান প্রদানের মাধ্যমে সেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতাই যেন আরও একবার বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদী যেভাবে একের পর এক সম্মান পাচ্ছেন, তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে। এর আগে ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, পাপুয়া নিউ গিনি সহ একাধিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ইথিওপিয়ার নাম।
ভারতের সাধারণ মানুষের কাছেও এই সম্মান আবেগের বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, এই সম্মান আসলে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সম্মান। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এর মাধ্যমে ভারতের সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতি মিলল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর পোস্টে সেই অনুভূতিই তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বদলে তিনি বারবার ভারতীয়দের সম্মিলিত অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এতে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ভাবমূর্তির পাশাপাশি তিনি ভারতের সামগ্রিক শক্তি ও ঐতিহ্যকেই সামনে আনতে চান। ‘গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ সম্মান শুধু একটি পদক নয়, বরং ভারত ও ইথিওপিয়ার বন্ধুত্বের প্রতীক। আগামী দিনে এই সম্মান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। নরেন্দ্র মোদীর এই সফর ও সম্মান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi and PM Benjamin Netanyahu discuss strategic partnership | ভারত-ইসরায়েল কূটনীতিতে নতুন গতি: নরেন্দ্র মোদী–নেতানিয়াহুর আলোচনায় জোর সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমর্থন



