Mamata Banerjee chair, Suvendu Adhikari decision | মমতার চেয়ারে বসতে নারাজ শুভেন্দু, বিধানসভায় নতুন বিতর্ক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: একটি কাঠের চেয়ার ঘিরে তুমুল আলোচনায় সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। বিধানসভার অন্দরমহলে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর ব্যবহৃত একটি চেয়ার এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) তা নিয়ে অবস্থান। সাধারণ একটি আসবাব ঘিরে যে এত রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হতে পারে, তা এই ঘটনাই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যে চেয়ারটি থাকার কথা, তা ব্যবহার না করে নিজের পুরনো চেয়ার নিয়ে এসেছেন শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যে চেয়ারে বসতেন, সেই পরিচিত কাঠের চেয়ারটিকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে স্থান দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।

আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar, Suvendu Adhikari Government Scheme | ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার, মহিলাদের ৩০০০ টাকা ও ফ্রি বাস, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

বিধানসভায় দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট প্রথা চলে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে একটি নির্দিষ্ট চেয়ার বরাদ্দ থাকে, যা একের পর এক মুখ্যমন্ত্রী ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ অনেকের নজর কেড়েছে। তিনি নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারে বসতে স্বচ্ছন্দ নই।’ এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটি এখন পাঠানো হয়েছে বিরোধী দলনেতার ঘরে। বর্তমানে সেই দায়িত্বে রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি ওই চেয়ারে বসবেন? নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা করা হবে? বিধানসভা সূত্রে খবর, শোভনদেব এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। আলোচনা চলছে, প্রয়োজন হলে ওই চেয়ারটি সম্মানের সঙ্গে ঘরে রাখা হবে, কিন্তু ব্যবহারের জন্য নতুন একটি চেয়ার আনা হতে পারে। এই সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

এই পুরো ঘটনাকে অনেকেই নিছক চেয়ার বদল হিসেবে শুধু দেখছেন না। বরং এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তকে তাঁর অতীত রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতি ধরে রাখার একটি প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন, সেই সময়ের চেয়ারে বসেই এখন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে চাইছেন, এই বিষয়টি অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্যে এক ধরনের ব্যক্তিগত অবস্থানও প্রতিফলিত হচ্ছে। পুরনো চেয়ারের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার সংযোগ তুলে ধরতে চেয়েছেন শুভেন্দু। এর মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চাইছেন যে, ক্ষমতায় এলেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল স্রোত বদলায়নি।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটিকে ঘিরেও আবেগ কাজ করছে অনেকের মধ্যে। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি যে চেয়ারে বসতেন, তা এখন অন্য ঘরে চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। এই চেয়ারটি শুধু একটি আসবাব নয়, বরং একটি সময়ের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিধানসভায় কর্মরত অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পরিবর্তন প্রশাসনিক রুটিনের অংশ হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা আলাদা মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ করে যখন দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধির মধ্যে এমন প্রতীকী পরিবর্তন ঘটে, তখন তা আরও গুরুত্ব পায়। কিন্তু শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি যদি মমতার ব্যবহৃত চেয়ারে বসেন, তা হলে এক ধরনের বার্তা যাবে। আবার যদি নতুন চেয়ার ব্যবহার করেন, তা হলেও অন্য ব্যাখ্যা সামনে আসবে। ফলে তাঁর সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত ঘুরছে। কেউ কেউ শুভেন্দুর সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক বার্তা খুঁজে পাচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ যে নিছক প্রথা ভাঙা নয়, তা অনেকেই মনে করছেন। বরং এর মধ্যে দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আলাদা করে তুলে ধরতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটির ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা অব্যাহত। তবে একটি সাধারণ কাঠের চেয়ার, কিন্তু তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুস্তরীয় আলোচনা। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতীকগুলিও যে বদলায়, এই ঘটনাই তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari CM: বাংলার নব মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী | ঐতিহাসিক দিন

Sasraya News
Author: Sasraya News