সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/জয়পুর: সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) ঘিরে ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার নেয় যে পরীক্ষার মাত্র ন’দিনের মাথায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency) সিদ্ধান্ত নেয় পরীক্ষা বাতিল করার। এর মধ্যেই রাজস্থানে বড়সড় পদক্ষেপ করে পুলিশ, ইতিমধ্যে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক সন্দেহভাজন ‘মূলচক্রী’কে। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (Special Operation Group) গোটা ঘটনার গভীরে পৌঁছতে তৎপর হয়েছে। সীকর (Sikar) জেলাকে ঘিরে তদন্তের মূল কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এখান থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সীকর থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের বিস্তার বোঝার চেষ্টা চলছে।
অন্য দিকে, জয়পুর (Jaipur) থেকে মণীশ (Manish) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁকে এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে সেই প্রশ্নপত্র ঘোরাফেরা করছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিল্লি (Delhi) সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, ‘পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট হলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।’ বহু পরীক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং গোটা ব্যবস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালেও একই ধরনের বিতর্ক সামনে এসেছিল। সেই সময় নিট-পিজি (NEET-PG 2024) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে উঠে আসে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ (Hazaribagh) জেলার ওয়েসিস স্কুল (Oasis School) -এর নাম। সেই ঘটনায় সিবিআই (Central Bureau of Investigation) স্কুলের অধ্যক্ষ, সহ-অধ্যক্ষ ও এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল।
তৎকালীন তদন্তে জানা যায়, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের জন্য রাখা সিল করা বাক্স বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল। সেখান থেকে প্রশ্নপত্র বের করে তা সমাধানের জন্য কিছু মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীকে দেওয়া হয়, যাঁদের ‘সলভার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সেই সমাধান করা প্রশ্নপত্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমান ঘটনাতেও সেই ধরনের কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চক্র একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকতে পারে। শুধু রাজস্থান নয়, অন্য রাজ্যের সংযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এই ধরনের ঘটনার প্রভাব গভীর। নিট পরীক্ষাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিযোগ উঠলে গোটা প্রক্রিয়ার উপর আস্থা নড়ে যায়।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, পরীক্ষার সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে নতুন প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে। যদিও পরীক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি।
বর্তমানে ধৃত ও আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে বলে অনুমান। তদন্তকারীরা ডিজিটাল প্রমাণও সংগ্রহ করছেন, যাতে প্রশ্নপত্র কীভাবে ছড়িয়েছে তা নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশজুড়ে যে ভাবে এই ঘটনা আলোড়ন তুলেছে, তাতে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নিট ২০২৬ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা এখন গোটা দেশের নজরে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : NEET UG 2026 cancellation | নিট ইউজি ২০২৬ বাতিল, প্রশ্নফাঁসে সিবিআই তদন্তে তোলপাড় দেশ




