Karwa Chauth Kidney Donation Story | করবা চৌথে স্বামীকে কিডনি দান করে নতুন জীবন দিলেন স্ত্রী, মধ্যপ্রদেশের প্রিয়ার নিঃস্বার্থ ভালবাসার আবেগে রাজগড়

SHARE:

প্রিয়া ও পুরুষোত্তমের পরিবারের ওপর নেমে আসে বজ্রাঘাতের মতো দুঃসংবাদ। পুরুষোত্তমের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সকলে মিলে খুঁজতে থাকেন উপযুক্ত ডোনার (Donor)। কিন্তু রক্তের গ্রুপ এবং অন্যান্য শারীরিক সামঞ্জস্যের কারণে কেউই এগিয়ে আসতে পারেননি। ঠিক তখনই স্বামীকে কিডনি ডোনেট করতে এগিয়ে আসেন প্রিয়া, এক মুহূর্ত দেরি না করে বলেন, 'যদি আমার কিডনি স্বামীর জীবন বাঁচাতে পারে, তবে এটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় করবা চৌথ।

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ★ রাজগড় : মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার একটি সাধারণ পরিবারে ঘটেছে অসাধারণ এক ঘটনা। করবা চৌথের (Karwa Chauth) পবিত্র দিনে, যখন দেশের হাজার হাজার নারী তাঁদের স্বামীর দীর্ঘ জীবনের প্রার্থনায় উপবাস রাখেন, তখন রাজগড়ের প্রিয়া সত্যিকারের অর্থে জীবন দান করলেন তাঁর স্বামী পুরুষোত্তমকে (Purushottam)। দুই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করে নজির গড়েছেন এই তরুণী।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সপ্তম কিস্তি)

করবা চৌথে স্বামীকে পরিবার, সমাজ এমনকী চিকিৎসক সমাজও প্রিয়ার এই সিদ্ধান্তে অভিভূত। কারণ এটি শুধু অঙ্গদান নয়, এটি এক নিঃস্বার্থ ভালবাসার প্রতীক, যে ভালবাসা শুধু করবা চৌথের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, তা জীবনের অন্তরঙ্গ বন্ধনের এক গভীর রূপ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগেই কোভিডে (COVID-19) আক্রান্ত হয়েছিলেন পুরুষোত্তম। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলেও কিছুদিন পর থেকেই তাঁর শরীরে অদ্ভুত উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে, চরম ক্লান্তি, মাথাব্যথা, এবং ঘুমঘোর অবসাদ। প্রথমে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া হলেও ধীরে ধীরে সমস্যা জটিল হতে থাকে। শেষমেশ চিকিৎসকরা জানান, পুরুষোত্তমের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়।

প্রিয়া ও পুরুষোত্তমের পরিবারের ওপর নেমে আসে বজ্রাঘাতের মতো দুঃসংবাদ। পুরুষোত্তমের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সকলে মিলে খুঁজতে থাকেন উপযুক্ত ডোনার (Donor)। কিন্তু রক্তের গ্রুপ এবং অন্যান্য শারীরিক সামঞ্জস্যের কারণে কেউই এগিয়ে আসতে পারেননি। ঠিক তখনই স্বামীকে কিডনি ডোনেট করতে এগিয়ে আসেন প্রিয়া, এক মুহূর্ত দেরি না করে বলেন, 'যদি আমার কিডনি স্বামীর জীবন বাঁচাতে পারে, তবে এটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় করবা চৌথ।
ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত

প্রিয়া ও পুরুষোত্তমের পরিবারের ওপর নেমে আসে বজ্রাঘাতের মতো দুঃসংবাদ। পুরুষোত্তমের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সকলে মিলে খুঁজতে থাকেন উপযুক্ত ডোনার (Donor)। কিন্তু রক্তের গ্রুপ এবং অন্যান্য শারীরিক সামঞ্জস্যের কারণে কেউই এগিয়ে আসতে পারেননি। ঠিক তখনই স্বামীকে কিডনি ডোনেট করতে এগিয়ে আসেন প্রিয়া, এক মুহূর্ত দেরি না করে বলেন, ‘যদি আমার কিডনি স্বামীর জীবন বাঁচাতে পারে, তবে এটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় করবা চৌথ।’

আরও পড়ুন : Smriti Mandhana record, women’s cricket record 2025 | বিশ্বরেকর্ড স্মৃতি মন্ধানার! ব্যাটে খরা, তবুও ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় ব্যাটার

ডাক্তাররা প্রিয়ার শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং সৌভাগ্যবশত দেখা যায়, তাঁর কিডনি স্বামীর শরীরে প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত। চিকিৎসকেরা প্রিয়ার সাহস এবং মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেন, ‘এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজকাল খুবই বিরল। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে মানসিক চাপ, তবু প্রিয়া দৃঢ় থাকলেন।’ প্রিয়া জানিয়েছেন, ‘আমি জানতাম ঝুঁকি আছে। কিন্তু আমি ভয় পাইনি। করবা চৌথে যখন স্ত্রী নিজের স্বামীর দীর্ঘ জীবনের কামনা করে উপবাস থাকে, আমি চেয়েছিলাম, তাঁকে নতুন জীবন দিতে। ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন, ও এখন আমার চোখের সামনেই হাসছে।’

আরও পড়ুন : Healthy Relationship Tips: টেকসই সম্পর্কের জন্য জরুরি টিপস

অন্যদিকে, হাসপাতালের বেডে বসে পুরুষোত্তম আবেগভরে বলেন, ‘আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে প্রিয়া। ও আমার স্ত্রী নয়, আমার জীবনের রক্ষক। এবার থেকে প্রতিটি করবা চৌথ আমি নতুন করে জীবন পাওয়ার দিন হিসেবে পালন করব।’
রাজগড় জেলা হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ড. আনন্দ শর্মা জানান, ‘অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উভয়েই সুস্থ আছেন। প্রিয়া অত্যন্ত সাহসী মহিলা। তাঁর এই পদক্ষেপ সমাজে অঙ্গদানের গুরুত্ব বাড়াবে।’ চিকিৎসকদের মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনেক রোগীর শরীরে জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে তা কিডনির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। পুরুষোত্তমের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

রাজগড় জুড়ে আলোচনার ঝড় 

প্রিয়া ও পুরুষোত্তমের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজগড়ের প্রতিটি পাড়ায় আলোচনার ঝড়। সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন, ‘এমন ভালবাসাই মানবতার সবচেয়ে বড় রূপ।’ কেউ লিখেছেন, ‘করবা চৌথ মানে শুধু উপবাস নয়, একে অপরের জীবনের প্রতি অঙ্গীকার।’ স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনা নিয়ে গর্বিত। রাজগড়ের জেলা কালেক্টর (Collector) জানিয়েছেন, ‘প্রিয়ার মতো নারীরাই সমাজে প্রকৃত প্রেরণা। তাঁর এই আত্মত্যাগের গল্প আরও অনেককে অঙ্গদানে উৎসাহিত করবে।’

ভারতজুড়ে আলোড়ন

ঘটনাটি শুধু রাজগড়েই সীমাবদ্ধ নেই। সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভালবাসার গল্প। দিল্লি, মুম্বই থেকে শুরু করে কলকাতা পর্যন্ত বহু সামাজিক সংস্থা প্রিয়াকে ‘করবা চৌথের আসল দেবী’ (True Goddess of Karwa Chauth) হিসেবে সম্মান জানাতে এগিয়ে এসেছে।দেশের অন্যতম অঙ্গদান প্রচারক সংগঠন ‘গিফট অফ লাইফ ইন্ডিয়া’ (Gift of Life India) জানিয়েছে, ‘প্রিয়ার মতো মানুষরা সমাজে অঙ্গদানের ভাবনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর এই পদক্ষেপে অনেকের জীবন বাঁচবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় দু’ লক্ষ মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যুর মুখে পড়েন। অথচ অঙ্গদানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অতি কম। অনেক সময় পরিবার ও সমাজের ভ্রান্ত ধারণার কারণে মানুষ এগোতে পারেন না। এই প্রেক্ষাপটে প্রিয়ার মতো মানুষের সিদ্ধান্ত এক নতুন বার্তা দেয়, অঙ্গদান মানেই জীবনের জয়।

আরও পড়ুন : Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় ‘লোডশেডিং’ হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

করবা চৌথের দিনটি প্রিয়ার জীবনে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক মানবিক বার্তা, ভালবাসা মানে শুধু প্রার্থনা নয়, প্রয়োজনে নিজের অঙ্গ দান করে অন্যের জীবন বাঁচানো। রাজগড়ের হাসপাতাল চত্বরে প্রিয়াকে দেখতে আসা প্রতিবেশীরা বলেন, ‘ওর মতো মেয়েরা সমাজে সত্যিকারের করবা চৌথ পালন করেন। কিডনি দান মানে শুধু দেহের অংশ নয়, এটা ওর হৃদয়ের ভালবাসা।’

প্রিয়া ও পুরুষোত্তমের এই ঘটনা এখন সামাজিক বার্তা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। অঙ্গদানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে স্বাস্থ্য দপ্তরও (Health Department) এই গল্পটি ব্যবহার করতে চায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা চাই, প্রিয়ার এই উদাহরণ আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করুক। অঙ্গদান মানেই অন্য এক জীবনের নবজন্ম।’

করবা চৌথে ভালবাসার আসল অর্থ 

প্রতি বছর করবা চৌথে যখন নারীরা তাঁদের স্বামীদের দীর্ঘ জীবনের কামনায় উপবাস রাখেন, তখন প্রিয়া তাঁর জীবনকেই উৎসর্গ করে দেখালেন, ভালোবাসার আসল অর্থ শুধু কামনা নয়, দান। তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজ সমগ্র ভারতের নারীদের প্রেরণা হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, পুরুষোত্তম এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। প্রিয়া হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর জানিয়েছেন, ‘ওর হাসি আমার কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ।’ তাঁদের এই গল্প শুধু রাজগড় নয়, গোটা দেশের হৃদয়ে ছুঁয়ে গিয়েছে। করবা চৌথের আলোয় প্রিয়া দেখালেন, ভালবাসা মানে শুধু প্রার্থনা নয়, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ রক্ষা করা। রাজগড়ের এই তরুণী হয়ে উঠেছেন আধুনিক ভারতের ভালবাসার প্রতীক।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra celebrates Karwa Chauth | করবা চৌথে প্রিয়াঙ্কার মেহেন্দিতে হিন্দিতে ‘নিকোলাস’, বিদেশে থেকেও সংস্কৃতির টানে মাতলেন অভিনেত্রী!

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন