সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ নতুন দিল্লি : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছিল উন্মাদনা, আর সেই আলোয় এবার বিশেষভাবে উঠে এলেন বলিউড তারকা নোরা ফতেহি (Nora Fatehi)। আন্তর্জাতিক তারকাদের ভিড়ে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। উদ্বোধনী মঞ্চে তাঁর গাওয়া ও নাচা ‘সির সির’ গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই গানের উৎস কোথায়? কীভাবে তৈরি হল এই সুর? সেই অজানা গল্পই সামনে এনেছেন নোরা নিজে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল একেবারে তারকাখচিত আয়োজন। কলম্বিয়ার পপ আইকন শাকিরা (Shakira), নাইজেরিয়ার গায়ক বার্না বয় (Burna Boy), আমেরিকার গায়িকা কেটি পেরি (Katy Perry) -এর পাশাপাশি একই মঞ্চে পারফর্ম করেন নোরা। কানাডায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। নাচ, সুর এবং উপস্থাপনার মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক আলাদা আবহ।
এই অনুষ্ঠানে নোরা পরিবেশন করেন ‘সির সির’ গানটি। ‘সির সির’ শব্দটির অর্থ এগিয়ে চলা বা সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। বিশ্বকাপের মতো একটি প্রতিযোগিতায় এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই গানটি যে শুধুমাত্র স্টুডিয়োর পরিকল্পনা থেকে তৈরি হয়নি, তার পেছনে রয়েছে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। এক সাক্ষাৎকারে নোরা জানান, মরোক্কোতে (Morocco) ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে তিনি প্রথম এই স্লোগানের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর কথায়, ‘স্টেডিয়ামে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমি হাজার হাজার দর্শককে একসঙ্গে ‘সির সির’ স্লোগান দিতে শুনেছি। সেই দৃশ্য এবং শব্দ আমাকে গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছিল। তখনই মনে হয়েছিল, এই আবেগকে সঙ্গীতে রূপ দেওয়া উচিত।’ এই ভাবনা থেকেই তিনি যোগাযোগ করেন তাঁর প্রযোজক সঞ্জয় (Sanjay)-এর সঙ্গে। নোরা বলেন, ‘আমি সঞ্জয়কে বলেছিলাম, এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্বকাপ গান তৈরি করতে চাই। কারণ এর মধ্যে যে শক্তি এবং আবেগ আছে, তা সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে।’ এরপর শুরু হয় কাজ, আর তৈরি হয় ‘সির সির’।
নোরার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিল্পী হিসেবে আরও পরিণত করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরের শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া তাঁর কাছে এক বিশেষ অর্জন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবেই তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ‘যখন বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, আলাদা সুর এবং শিল্পচর্চা এক জায়গায় মিলিত হয়, তখন সঙ্গীতের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায়। এটি মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনে এক নতুন সম্পর্ক তৈরি করে।’ শাকিরা, বার্না বয় কিংবা কেটি পেরির মতো শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকা তাঁর কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন নোরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে ভাইরাল। ‘সির সির’ গানটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। অনেকেই এই গানকে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় সঙ্গীত হিসেবে দেখছেন। নোরার যাত্রাপথও কম চমকপ্রদ নয়। মরোক্কান বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। বিভিন্ন আইটেম গান, সিনেমা এবং রিয়েলিটি শো-তে অংশগ্রহণ করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আর এবার বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করে তাঁর কেরিয়ারে যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। ‘সির সির’ গানটি শুধু একটি সঙ্গীত নয়, বরং একটি আবেগ, যা ফুটবল এবং সঙ্গীত দুই জগতকেই একসঙ্গে বেঁধে ফেলেছে। দর্শকদের স্লোগান থেকে তৈরি হওয়া এই গান এখন বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে পড়েছে। নোরার এই উদ্যোগ তাঁর সৃজনশীল ভাবনার পরিচয় দেয়। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন একটি পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী দিনেও এই গান আরও জনপ্রিয় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমী এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ‘সির সির’ এখন এক নতুন স্লোগান হয়ে উঠছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : World Cup scorer | শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বমঞ্চে ঝড়! ২০ বছরের ইরানকুন্ডার পায়ে ইতিহাস, অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা



