প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ হায়দরাবাদ: দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরকোন্ডা (Vijay Deverakonda) এবং রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna) বিয়ের পরেই যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিলেন। তেলঙ্গানার (Telangana) পড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা, আর সেই উদ্যোগেই এবার ১৮০ জন ছাত্রছাত্রী পেল আর্থিক সহায়তা। রবিবার থুম্মানপেট (Thummanpet) গ্রামে এক অনুষ্ঠানে এই স্কলারশিপ তুলে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকাদম্পতি। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তেলঙ্গানার নবম ও দশম শ্রেণির মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে চান। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ‘দ্য দেবরকোন্ডা ফাউন্ডেশন’ (The Deverakonda Foundation) -এর মাধ্যমে শুরু হল এই প্রকল্প।
রবিবারের অনুষ্ঠানে বিজয় নিজে উপস্থিত থেকে পড়ুয়াদের হাতে স্কলারশিপ তুলে দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রশ্মিকাও। থুম্মানপেট গ্রামটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এটি বিজয়ের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে জড়িত। এই গ্রামেই আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটির। বিজয় জানান, ‘যে পড়ুয়ারা ভাল ফল করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার বহু দিনের ইচ্ছে। আমি জীবনে মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটার কিছুটা ফিরিয়ে দিতে চাই।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত সেই সব ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করা হচ্ছে, যারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। নবম ও দশম শ্রেণি এমন একটি সময়, যখন অনেক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। সেই পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা তাদের জন্য বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা।
রশ্মিকাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আজ আমি খুব বেশি কিছু বলব না। তবে আমরা যে কাজটা শুরু করছি, সেটা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঠিক করেছিলাম, আচমপেট (Achampet) এবং থুম্মানপেট থেকেই এই উদ্যোগ শুরু করব। কারণ, এটি আমার শ্বশুরমশাইয়ের গ্রাম। আজ আমি আপনাদের সামনে রশ্মিকা মন্দানা দেবরকোন্ডা হিসেবে কথা বলছি।’ তাঁর এই বক্তব্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় অনুষ্ঠানে। এই প্রথম নয়, এর আগেও ‘দ্য দেবরকোন্ডা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারির সময় থেকে শুরু করে নানা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংস্থা। তবে বিয়ের পর এই প্রথম বড় মাপের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্প শুরু করলেন বিজয় ও রশ্মিকা।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে (Udaipur) ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ে হয় এই তারকাজুটির। পরে হায়দরাবাদে (Hyderabad) আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। বিয়ের সময় থেকেই তাঁদের সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল অনুরাগীদের মধ্যে। এর কিছুদিন পরেই তাঁরা থুম্মানপেট গ্রামে যান এবং নতুন বাড়ির গৃহপ্রবেশ ও সত্যনারায়ণ পুজো সম্পন্ন করেন। সেই সময়েই স্কলারশিপ প্রকল্পের কথা প্রথম সামনে আসে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেল। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে। অনেক সময় আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ছাত্রছাত্রীরা। সেই পরিস্থিতিতে এই স্কলারশিপ নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়ারা এবং তাঁদের পরিবার এই উদ্যোগে খুশি। অনেকেই জানিয়েছেন, এই সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। বিজয় ও রশ্মিকার এই উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিনোদন জগতের বাইরে এসে সমাজের জন্য কাজ করার এই প্রচেষ্টা তাঁদের জনপ্রিয়তাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প আরও বড় আকার নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার। কিন্তু আপাতত ১৮০ জন পড়ুয়ার মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই উদ্যোগ। আর সেই হাসিই এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kangana Ranaut, Bharat Bhagya Vidhata film update | ‘ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ যোগাযোগ রাখে না’! ছবি মুক্তির আগে কঙ্গনার মন্তব্যে জোর জল্পনা, অভিমানী কি নায়িকা?



