সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ভ্যাঙ্কুভার: ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) মানেই স্বপ্ন, সংগ্রাম আর অবিশ্বাস্য গল্পের মেলবন্ধন। সেই মঞ্চেই এ বার উঠে এল এক অনন্য কাহিনি, নেস্টোরি ইরানকুন্ডা (Nestory Irankunda) -এর। শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ফুটবলার আজ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) কনিষ্ঠতম গোলদাতা। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি গড়লেন এক নজির, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তুরস্ক (Turkey)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নেমেই নিজের ছাপ রেখে দেন ইরানকুন্ডা। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল পেয়ে একক দক্ষতায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে গোল করেন তিনি। সেই গোল শুধু ম্যাচের গতি বদলায়নি, তৈরি করেছে ইতিহাসও। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই সাফল্যের পেছনের গল্প আরও বেশি আবেগঘন। ইরানকুন্ডার শিকড় বুরুন্ডি (Burundi)-তে। গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা আশ্রয় নেন তানজ়ানিয়া (Tanzania) -এর কিগোমা অঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে। সেখানেই ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম হয় নেস্টোরির। শৈশবের প্রথম কয়েক বছর কেটেছে সেই কঠিন পরিবেশে। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়। নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু হয়। প্রথমে কিছুদিন পার্থে থাকলেও পরে অ্যাডিলেড (Adelaide) -এর উত্তর শহরতলিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে পরিবার। সেখানেই ফুটবলের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। ছোট থেকেই বল পায়ে অসাধারণ দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন তিনি।
অ্যাডিলেড ইউনাইটেড (Adelaide United)-এর অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে পেশাদার ফুটবলের পথে হাঁটা শুরু। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগে (A-League) অভিষেক হয় তাঁর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের প্রতিভার ছাপ ফেলেন। গতি, শক্তি এবং বল নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে তিনি দ্রুত নজর কেড়ে নেন কোচ এবং দর্শকদের। একটি অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছিল, ‘দুর্দান্ত গতি, অপ্রতিরোধ্য শক্তি, নিখুঁত কৌশল এবং নির্ভীক ড্রিবলিং এই সব গুণ তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। তাঁর ডান পায়ের শট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।’ এই মন্তব্যই বুঝিয়ে দেয়, কেন এত কম বয়সে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনায় উঠে এসেছেন, ২০২২ সালেই অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পান ইরানকুন্ডা। এরপর তাঁর পারফরম্যান্স নজরে পড়ে ইউরোপের একাধিক ক্লাবের। ২০২৪ সালে তাঁকে চুক্তিবদ্ধ করে জার্মানির বিখ্যাত ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich)। যদিও প্রথম দলে জায়গা পাননি, তবু দ্বিতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ তাঁকে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে।
পরে তাঁকে লোনে পাঠানো হয় সুইজ়ারল্যান্ডের গ্রাসহুপার (Grasshopper Club Zurich)-এ। সেখানে খেলে আরও পরিণত হন তিনি। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের ক্লাব ওয়াটফোর্ড (Watford FC) -এর সঙ্গে চুক্তি করেন। ইউরোপীয় ফুটবলে এই যাত্রা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেললেও স্ট্রাইকার হিসেবেও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন ইরানকুন্ডা। মাঠে তাঁর গতি এবং আক্রমণভাগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেই দক্ষতার ঝলক দেখা গিয়েছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি আরও গোল করতে পারতেন বলেও মনে করা হচ্ছে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলি কাজে লাগাতে পারেননি। তবু তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই বয়সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খুব কম খেলোয়াড়ই দেখাতে পারেন। ইরানকুন্ডার গল্প শুধু একটি ফুটবলারের সাফল্যের গল্প নয়, এটি এক সংগ্রামের ইতিহাস। শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মাঠ, এই যাত্রা বহু তরুণের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি থেকেও কীভাবে উঠে এসে নিজের স্বপ্নকে বাস্তব করা যায়, তিনি তার জীবন্ত উদাহরণ।
অস্ট্রেলিয়া দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইরানকুন্ডা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। তাঁর পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে আগামী দিনে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠতে পারেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই অভিষেক এবং গোল ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অংশ। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে শুরুটা যেভাবে করেছেন, তাতে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন তাঁর দিকেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :
Nestory Irankunda World Cup goal, Australia youngest scorer, refugee to football star, FIFA World Cup Australia, Irankunda profile, football inspiring story,
নেস্টোরি ইরানকুন্ডা, অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা, বিশ্বকাপ ফুটবল, শরণার্থী থেকে ফুটবলার, অস্ট্রেলিয়া দল খবর,
Nestory Irankunda, Australia, FIFA World Cup, Football News, Young Footballer, Refugee Story,
নেস্টোরি ইরানকুন্ডা গোল, Australia youngest World Cup scorer, refugee footballer story, Irankunda World Cup performance, অস্ট্রেলিয়া ফুটবল খবর,



