সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ ভ্যাঙ্কুভার: ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) ভারতের নাম নেই বহু বছর ধরেই। তবু ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ফুটবলারের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের। প্রায় দুই দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গেল ভারতীয় শিকড়ের এক খেলোয়াড়কে। অস্ট্রেলিয়ার (Australia) জার্সিতে অভিষেক করলেন নিশান ভেলুপিল্লাই (Nishan Velupillay), যা ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগ ও গর্বের এক অনন্য মুহূর্ত। রবিবার তুরস্কের (Turkey) বিরুদ্ধে ম্যাচে পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামেন ২৫ বছর বয়সি এই উইঙ্গার। ম্যাচের ৬১ মিনিটে তাঁকে নামান কোচ টনি টোপোভিচ (Tony Popovic)। যদিও এই ম্যাচে নিজের সেরাটা পুরোপুরি তুলে ধরতে পারেননি ভেলুপিল্লাই, তবু তাঁর এই অভিষেকই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। কারণ, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেললেন। এর আগে ২০০৬ সালে ফ্রান্স (France)-এর হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন বিকাশ ধোরাসু (Vikash Dhorasoo)। তারপর দীর্ঘ ২০ বছর কেটে গেলেও সেই তালিকায় নতুন কোনও নাম যোগ হয়নি। সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন ভেলুপিল্লাই।
নিশানের পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর মা গিলিয়ান ভেলুপিল্লাই (Gillian Velupillay) অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত, আর বাবা শ্রীলঙ্কার তামিল পরিবার থেকে উঠে আসা। এই বহুসাংস্কৃতিক পটভূমি তাঁর পরিচিতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও তাঁর পরিচয়ের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের ছাপ রয়েছে। ফুটবল কেরিয়ারের শুরু থেকেই নজর কেড়েছেন ভেলুপিল্লাই। মেলবোর্ন ভিক্ট্রি (Melbourne Victory) -এর অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২১ সাল থেকে ক্লাবের সিনিয়র দলে নিয়মিত খেলছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ১৩৮টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ২৫টি গোল করেছেন, যা একজন উইঙ্গারের জন্য যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান।
২০২১-২২ মরসুমে অস্ট্রেলিয়ার সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কারও জেতেন তিনি। এই স্বীকৃতি তাঁর প্রতিভাকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরে। পরবর্তী সময়েও তাঁর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, বিশেষ করে ২০২৪-২৫ মরসুমে তিনি আরও পরিণত ফুটবল খেলেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর যাত্রা শুরু ২০২৪ সালে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে চিন (China)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তিনি। সেই ম্যাচেই মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে গোল করে সকলের নজর কেড়ে নেন। এই পারফরম্যান্স তাঁকে কোচ টনি টোপোভিচের আস্থার জায়গায় নিয়ে যায়। তুরস্কের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে যদিও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি ভেলুপিল্লাই, তবু তাঁর উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের গতি, প্রতিপক্ষের চাপ, সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিলই। কোচও তাঁকে ধীরে ধীরে বড় মঞ্চে অভ্যস্ত করে তুলতে চাইছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ভেলুপিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁর গতি, উইং দিয়ে আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা এবং গোলের সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা দলকে বাড়তি শক্তি দেয়। আগামী ম্যাচগুলিতে তাঁর কাছ থেকে আরও ভাল পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকছে। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও তিনি ভারতের হয়ে খেলছেন না, তবু তাঁর শিকড়ের কারণে ভারতীয়দের সঙ্গে এক আবেগের যোগ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আসবেন। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়া যে কোনও ফুটবলারের জন্যই স্বপ্নপূরণ। ভেলুপিল্লাইয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর এই যাত্রা নতুন প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়া দলের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ভেলুপিল্লাই কতটা সময় পান এবং কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। তবে তাঁর এই অভিষেক ইতিমধ্যেই ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। দুই দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতীয় শিকড়ের এক ফুটবলারের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Messi World Cup preparation, Argentina World Cup squad news | বিশ্বকাপের আগে ফিট মেসি, মাঠে ফের ‘পুরনো লিয়ো’ তবু সতর্কতার সুর, স্কালোনির জন্য বড় বার্তা ভেরনের




