বসুধা চৌধুরী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও হৃদয়ের এক কোণে নিজের শিকড়টাকে আগলে রেখেছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। বলিউডের ঝলমলে পর্দা থেকে শুরু করে হলিউডের আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সব জায়গাতেই নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন তিনি। কিন্তু জনপ্রিয়তা, খ্যাতি কিংবা বিদেশের ঝাঁ চকচকে জীবন, কোনও কিছুই তাঁর ভেতরের ভারতীয় সত্তাকে মুছে দিতে পারেনি। সেই প্রমাণ মিলল ফেরও। করবা চৌথ (Karwa Chauth) উপলক্ষে স্বামী নিক জনাস (Nick Jonas) -এর নাম হিন্দিতে লিখে মেহেন্দি পরলেন প্রিয়াঙ্কা, আর সেই মুহূর্তই ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শুক্রবার রাতে করবা চৌথের আগে হাত রাঙালেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু এবার বিশেষ চমক ছিল মেহেন্দীর ডিজাইনে। হাতের মাঝে সুন্দর কারুকার্যে লেখা ছিল স্বামীর নাম,‘নিকোলাস’ (Nicholas)। শুধু তা-ই নয়, হিন্দিতে নিজের হাতে লিখলেন নিকের নাম, যা দেখে ভক্তরা অভিভূত। নিকের প্রতি ভালবাসা, আবার নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান, দুটোকেই একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনেত্রী।

ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘Love, faith and tradition. Forever mine.’ ক’য়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্টে লক্ষাধিক লাইক পড়ে। শুধু প্রিয়াঙ্কা নন, মেয়ে মালতী মেরিকেও (Malti Marie) দেখা গেল মেহেন্দি পরতে। ছোট্ট হাতজোড়ায় মালতীর মেহেন্দি যেন এক অন্যরকম ভালবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মা-ছেলেমেয়ের এই ছবি দেখে নেটিজেনদের মন্তব্য, ‘এমন দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়, ভারতীয় সংস্কৃতি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও গর্বের সঙ্গে বেঁচে আছে।’

হলিউডে শুটিং আর ব্যস্ত জীবনসত্ত্বেও করবা চৌথের উপবাস, সাজপোশাক, পুজো, সব রীতি নিজে হাতে পালন করেন প্রিয়াঙ্কা। অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, ‘প্রিয়াঙ্কা যেখানেই থাকুন না কেন, করবা চৌথে তিনি কখনও আপস করেন না। ভোরে স্নান সেরে, সাজগোজ করে পুজো করেন। তারপর চাঁদ ওঠার অপেক্ষা, সবটা তিনি নিজের হাতে করেন।’ বিদেশের মাটিতে থেকেও ভারতীয় উৎসবের আবহ যেন তাঁর ঘরে প্রবলভাবে জেগে ওঠে। করবা চৌথ ছাড়াও দুর্গাপুজো, দিওয়ালি, রাখীবন্ধন, হোলি, সবই পালন করেন অভিনেত্রী। চলতি বছরের দুর্গাপুজোতেও প্রিয়াঙ্কাকে দেখা গিয়েছিল মুম্বইয়ের মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজোমণ্ডপে। হাতে শঙ্খপালা, পরনে লাল শাড়ি, সেই লুকেই মাত করেছিলেন নায়িকা।

২০১৮ সালে প্রিয়াঙ্কা-নিকের প্রেমের শুরু। আন্তর্জাতিক আলোচনায় ছিল তাঁদের সম্পর্ক। একই বছরই রাজস্থানের (Rajasthan) উমেদ ভবন প্যালেসে (Umaid Bhawan Palace) বসেছিল তাঁদের বিয়ের আসর। দুই সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়ে হিন্দু ও খ্রিষ্টান রীতিতে সম্পন্ন হয়েছিল তাঁদের বিবাহ। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সারোগেসির (Surrogacy) মাধ্যমে মা হন প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের ঘরে আসে কন্যাসন্তান মালতী মেরি।বয়সে নিক প্রায় দশ বছরের ছোট হলেও, সে পার্থক্য তাঁদের সম্পর্কে কোনওদিন প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
৮ বছরের দাম্পত্যে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও বোঝাপড়ার মেলবন্ধনই তাঁদের করে তুলেছে অনন্য। যখন বলিউডের একের পর এক তারকা দম্পতির বিচ্ছেদের খবর শিরোনামে, তখন প্রিয়াঙ্কা-নিকের হাসি, একে অপরের পাশে থাকা, সবটাই যেন ভালবাসার এক সজীব প্রমাণ।

প্রিয়াঙ্কা এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে (Los Angeles) থাকলেও, দেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রায়ই বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি, আমার হৃদয় সবসময় ভারতের সঙ্গেই যুক্ত।’ তাঁর এই মনোভাবেই যেন প্রতিফলিত হয় আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন।সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, ‘প্রিয়াঙ্কা আমাদের গর্ব। বিদেশে থেকেও যেভাবে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

করবা চৌথের রাতে তাঁর ছবিতে নিকের মন্তব্যও নজর কাড়ে, ‘You are my moon, always.’
ভালবাসা, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এমন সুন্দর সমন্বয়ই আজ প্রিয়াঙ্কাকে কেবল একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রীই নয়, একজন গর্বিত ভারতীয় নারী হিসেবেও তুলে ধরছে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra relationship news | নিকের আগে প্রিয়াঙ্কার অজানা অধ্যায়: প্রহ্লাদ কক্কড়ের বিস্ফোরক মন্তব্য




