Lucknow Fire Incident, Anamika Samanta Nilesh Kumar Death | বিয়ের স্বপ্ন পুড়ে ছাই! লখনউ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল অনামিকা সামন্ত ও নীলেশ কুমার -এর, শোকস্তব্ধ দুই পরিবার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: কয়েক মাস পরেই চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবারে কথা এগিয়ে গিয়েছিল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন সকলে। কিন্তু আচমকাই সব থেমে গেল ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে। লখনউয়ের (Lucknow) আলিগঞ্জ এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে আগুন লেগে মৃত্যু ১৫ জনের। সেই তালিকায় রয়েছেন কলকাতার মেয়ে অনামিকা সামন্ত (Anamika Samanta) ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমার (Nilesh Kumar)। একসঙ্গে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত একসঙ্গেই চলে গেলেন। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে আলিগঞ্জের চারতলা একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনের উপরের তলায় ছিল একটি কোচিং সেন্টার, আর তার নিচের তলায় বিভিন্ন বেসরকারি অফিস। তিনতলায় ছিল একটি গেম ডেভেলপমেন্ট ও থ্রিডি আর্ট সংস্থার স্টুডিয়ো, যেখানে কাজ করতেন অনামিকা ও নীলেশ। ঘটনাচক্রে, আগুনের সূত্রপাতও সেই তলাতেই বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

অনামিকা, কলকাতার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে কয়েক বছর ধরে লখনউয়ে থাকতেন। একই সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে তাঁর আলাপ হয় নীলেশের সঙ্গে। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে গাঢ় সম্পর্কে পরিণত হয়। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁরা একে অপরকে চিনতেন। পরিবারের কাছে সম্পর্কের কথা জানানো হলে, উভয় পক্ষ থেকেই সম্মতি মেলে। বিয়ের দিনক্ষণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। নীলেশের দাদা অভিষেক কুমার (Abhishek Kumar) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘গত সপ্তাহেই অনামিকার বাবা-মা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। বিয়ের ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরের সপ্তাহে আমাদের কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। নভেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’ তাঁর কণ্ঠে ছিল শোক আর অবিশ্বাসের মিশেল।

সূত্রের খবর, অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত (Biswanath Samanta) ও মা সুলেখা সামন্ত (Sulekha Samanta) সম্প্রতি লখনউয়ে গিয়ে নীলেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। অনামিকার ভাই-সহ পরিবারের চার জন উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছিল। সেই আনন্দের আবহ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। ঘটনার দিন অফিসের কাজেই ছিলেন অনামিকা ও নীলেশ। আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনতলায়। দমকল পৌঁছনোর আগেই ধোঁয়া ও আগুনে আটকে পড়েন বহু মানুষ। উদ্ধারকাজ চালানো হলেও অনেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন এই যুগল। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। নীলেশের পরিবার জানায়, প্রথমে তাঁরা কিছুই বুঝতে পারেননি। সন্ধ্যার দিকে মর্গ থেকে ফোন আসে। তখনই জানা যায়, নীলেশ আর বেঁচে নেই। একই সঙ্গে অনামিকার মৃত্যুর খবরও পৌঁছয়। দুই পরিবারেই নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

অনামিকা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও কর্মঠ। গেম ডেভেলপমেন্ট ও থ্রিডি আর্টের কাজে তাঁর দক্ষতা ছিল। লখনউয়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় তিন বছর ধরে কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, নিজের পেশা নিয়ে তিনি ভীষণ উৎসাহী ছিলেন। অন্যদিকে নীলেশও একই পেশায় যুক্ত ছিলেন ও সহকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। প্রসঙ্গত, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই পড়ুয়া, যারা কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছিলেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালায়। ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। কোচিং সেন্টারটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কী কারণে আগুন লাগল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি নির্গমন পথও যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর শহরের অন্যান্য কোচিং সেন্টার ও বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একদিকে প্রশাসনিক তদন্ত এগোচ্ছে, অন্যদিকে দুই পরিবারের কাছে এটি অপূরণীয় ক্ষতি। যে সম্পর্ককে ঘিরে এত পরিকল্পনা ছিল, তা মুহূর্তে থেমে গেল। অনামিকা ও নীলেশের গল্প এখন কেবল স্মৃতিতে রয়ে গেল, অসমাপ্ত এক অধ্যায় হয়ে। লখনউয়ের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ত্রুটি কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আর সেই বিপর্যয়ের মাঝেই হারিয়ে গেল দু’টি তরুণ প্রাণ, যাদের সামনে ছিল দীর্ঘ ভবিষ্যৎ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lucknow coaching centre fire | লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, হুড়োহুড়িতে ঝাঁপ পড়ুয়াদের, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৪, বহুজন আশঙ্কাজনক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন