India GDP growth forecast, MoSPI | উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে গতি সঞ্চার, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশে পৌঁছনোর পূর্বাভাস

SHARE:

৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করবে। উৎপাদন খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগ, পরিষেবা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারি বিনিয়োগ এই বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ভোক্তা চাহিদা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখতে সহায়ক হবে।

দেবব্রত সরকার, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির হার পৌঁছতে পারে ৭.৪ শতাংশে। আগের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫ -এ যেখানে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ, সেখানে এবার উল্লেখযোগ্য উন্নতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উৎপাদন (Manufacturing) এবং পরিষেবা (Services) খাতের ধারাবাহিক শক্তিশালী পারফরম্যান্স। বুধবার প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আশাপ্রদ সঙ্কেত দিচ্ছে। জাতীয় আয় সংক্রান্ত প্রথম আগাম হিসেব (First Advance Estimates of National Income) প্রকাশ করেছে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন মন্ত্রক (Ministry of Statistics & Programme Implementation – MoSPI)। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাত চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এই গতি বজায় থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পরিষেবা খাতে প্রাণবন্ত বৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত মোট মূল্য সংযোজন বা রিয়্যাল জিভিএ (Real GVA) বৃদ্ধির হারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।’ মন্ত্রকের অনুমান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৭.৩ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্য, পরিবহণ এবং যোগাযোগ পরিষেবা এই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারতের পরিষেবা খাতের এই ধারাবাহিক শক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের প্রতিফলন। ব্যাঙ্কিং, বিমা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সম্প্রসারণ পরিষেবা খাতকে আরও মজবুত করছে। এর ফলে শহর ও আধা-শহরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

আরও পড়ুন : Birsa Harit Gram Yojana Jharkhand | গোশালার সারেই বদলাচ্ছে গ্রামবাংলার অর্থনীতি, ঝাড়খণ্ডে বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা

কিন্তু, সব খাতেই সমান হারে বৃদ্ধি হচ্ছে না। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাত (Agriculture and Allied Sectors) এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জল সরবরাহ ও অন্যান্য ইউটিলিটি পরিষেবা (Electricity, Gas, Water Supply and Other Utility Services) খাতে চলতি অর্থবর্ষে তুলনামূলকভাবে মাঝারি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রক। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি কৃষি খাতের বৃদ্ধির গতিকে কিছুটা ধীর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও গ্রামীণ চাহিদা এবং সরকারি সহায়তা প্রকল্পগুলি এই খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি দামে বা নামমাত্র জিডিপি (Nominal GDP at Current Prices) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৮ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। নামমাত্র জিডিপি বৃদ্ধির এই পূর্বাভাস মূল্যস্তর, ভোগব্যয় এবং বিনিয়োগের সম্মিলিত প্রভাবকে তুলে ধরে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে এই নামমাত্র বৃদ্ধিই প্রকৃত আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।এই আগাম হিসাবের তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই প্রস্তুত হয় কেন্দ্রীয় বাজেট। ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হতে চলা আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget) তৈরিতে এই পরিসংখ্যানগুলি মূল নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। কোন খাতে কতটা ব্যয় বাড়ানো হবে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিল্পে প্রণোদনার মতো বিষয়গুলির সিদ্ধান্ত অনেকটাই এই অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন : Assam Politics, BJP News | অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কৌশলগত চমক, নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, এনডিএর তৃতীয় জয়ের আশায় দল

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করবে। উৎপাদন খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগ, পরিষেবা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারি বিনিয়োগ এই বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ভোক্তা চাহিদা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখতে সহায়ক হবে। তবে, পরিসংখ্যান ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) -এর এই অগ্রিম হিসাব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক সঙ্কেত পাঠাচ্ছে। যদিও বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি দামের মতো বিষয়গুলি আগামী দিনে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবুও বর্তমান পরিসংখ্যান ভারতের অর্থনীতির ভিত যে শক্তিশালী, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দেশের শিল্প, পরিষেবা ও সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রার প্রতিচ্ছবি। উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের গতি বজায় থাকলে এবং কৃষি ও অন্যান্য খাতে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হলে, ভারতের অর্থনীতি আগামী দিনে আরও উচ্চতর বৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian economy fourth largest, Indian GDP 4.18 trillion | অর্থনীতির দৌড়ে বড় লাফ: জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন