Chuchura Form 7 Controversy : Asit Majumdar : সরকারি দফতরে ঢুকে ফর্ম৭ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়ককে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা চুঁচুড়ায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ চুঁচুড়া : সরকারি দফতরের ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী নথি ‘ফর্ম ৭’ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তাল হয়ে উঠল হুগলির চুঁচুড়া। অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার (Asit Majumdar) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে হুগলি সদর মহকুমাশাসকের (Sub-Divisional Officer, Sadar) দফতরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বিজেপি (BJP) প্রকাশ্যে মারধর ও প্রশাসনিক দফতরে হেনস্থার অভিযোগ তুললেও, তৃণমূল শিবির সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছে। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সোমবার বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার তাঁর একাধিক অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে হুগলির সদর মহকুমাশাসকের দফতরে উপস্থিত হন। অভিযোগ, বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গীরা দফতরের সিঁড়ি ভেঙে উপরের তলায় ওঠার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে। বিজেপির দাবি, সেই সময় শুনানিকেন্দ্রে ‘ফর্ম৭’ জমা দিতে এসেছিলেন তাঁদের একাধিক নেতা-কর্মী। অভিযোগ, সেই ফর্ম কেড়ে নিয়ে কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Bhabanipur win | ‘ভুয়ো ভোটার ছাড়া জেতা অসম্ভব’ : ভবানীপুরের জয় নিয়ে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের, পাল্টা তৃণমূলের তীব্র জবাব

বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, সন্দীপ সাধুখাঁ (Sandip Sadhukhan) নামে একজন স্থানীয় বিজেপি নেতাকে পুলিশের সামনেই হেনস্থা করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, শুধু ফর্ম ছেঁড়াই নয়, তাঁদের কর্মীদের ধাক্কা মেরে দফতর থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ‘ফর্ম৭’ হল একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যার মাধ্যমে বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ায় (SIR) ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন জানানো হয়। সেই ফর্ম ছিঁড়ে ফেলা মানেই গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিধায়ক অসিত মজুমদার প্রকাশ্যে ফর্ম ছেঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজে এমন কিছু দেখিনি। কে বা কারা ফর্ম ছিঁড়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টাকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সেই কারণেই আমাদের কর্মীরা শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে এমন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। বিজেপির বক্তব্য, এতে করে সরকারি দফতরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। যদিও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার খবর পেয়ে পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মহকুমাশাসকের দফতরে পৌঁছয়। পুলিশ আসার পরও উত্তেজনা কমেনি। উল্টে বিজেপির কর্মীরা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মহকুমাশাসকের দফতরের ভিতর ও বাইরে স্লোগান ওঠে। প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে অন্য একটি প্রশাসনিক ভবন, চণ্ডীতলা-২ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO, Chanditala-II) দফতরের সামনেও তৃণমূল কংগ্রেস বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেই সময় অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

শুধু হুগলি নয়, একই ইস্যুতে উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম বর্ধমানেও। আসানসোল (Asansol) মহকুমাশাসকের দফতরে ফর্ম ৭ জমা দিতে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সেখানে তৃণমূলের লোকজন পৌঁছনোর পরই দুই দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, তাদের একাধিক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘আমরা মারধরের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বিজেপিই উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসানসোল দক্ষিণ থানার (Asansol South Police Station) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, রাজ্য জুড়ে ফর্ম৭ ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক দফতরে এই ধরনের সংঘর্ষ গণতান্ত্রিক পরিসরে কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee road rally Kolkata | দিল্লির বঞ্চনার বিরুদ্ধে যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত মমতার পদযাত্রা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন