সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ : লালবাগ (Lalbagh) মুর্শিদাবাদে সোমবার রাজনৈতিক উত্তেজনার চরম পারদ ওঠে। লালবাগ মহকুমা শাসকের অফিস এলাকায় ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সময় পরিস্থিতি অবনতির শিকার হয়। পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাণ্ডব চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress -TMC) স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে, যারা বিজেপি (BJP) জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল (Soumen Mondal) এবং তাঁর সমর্থক কর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করে। সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে লালবাগ মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে বেশ তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে তর্ক-ঝগড়া ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ভাঙচুরের সময় থান ইট ছুঁড়ে বিজেপির জেলা সভাপতির গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়। সৌভাগ্যক্রমে, গাড়িতে কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ এলাকার সাধারণ মানুষ এবং অফিস কর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে।
জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল জানান, ‘বিভিন্ন এলাকা থেকে দুষ্কৃতীদের এনে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমাদের ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সময়ে পুলিশ সামনেই গাড়ি ভাঙচুর এবং অন্যান্য হিংস্র আচরণ করা হয়েছে। অভিযোগ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শাওনি সিংহ রায়ের (Shaoni Singh Roy) নেতৃত্বে সংঘটিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু রাজনৈতিক হামলা নয়, সাধারণ মানুষ এবং অফিস কর্মীদের উপরও মানসিক প্রভাব ফেলেছে।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। শাওনি সিংহ রায় জানান, ‘বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে কর্মীরা বাজারের ব্যাগে ভরা সবজি-পটলের মতো ২৭ হাজার ৭ নম্বর ফর্ম নিয়ে এসেছিল। আমরা দেখেছি, এই ফর্মগুলি যথাযথভাবে জমা হয়নি। তাছাড়া, স্থানীয় মানুষরা এই ধরনের চাপের মধ্যে পড়ে সমস্যায় আছেন। বিধায়ক এবং তাঁর সমর্থকরা এলাকার সাধারণ মানুষদের হয়রানি করছে।’
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সংঘর্ষের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। লালগোলা ও লালবাগ এলাকায় প্রায়শই দলীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার পুলিশ উপস্থিত থাকলেও গাড়ি ভাঙচুর এবং ফর্ম পুড়ানোর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের হিংস্র আচরণ ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি করতে পারে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তবে তাণ্ডবের সময় সংঘটিত হিংস্রতার বিস্তারিত তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিনের ঘটনার পর লালগোলার সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে সাধারণ জীবন ব্যাহত হচ্ছে। অফিসের সামনে এই ধরনের হিংসার ঘটনা আমাদের জন্য আতঙ্কজনক।’ রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার ঘটনায় এই ধরনের উত্তেজনা ভবিষ্যতে রাজনীতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘পুলিশের সামনেও গাড়ি ভাঙচুর হল, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’ আবার অন্যরা বলছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন।’
অতএব, লালগোলা ও লালবাগ এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানাপোড়েন, অভিযোগ-প্রত্যাহারের খেলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা শান্তিপূর্ণ সমাধান করা উচিত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Claims TMC-BJP Vote Gap Gone After SIR | SIR-এর পর তৃণমূল-বিজেপির ভোট ব্যবধান নেই? শুভেন্দুর দাবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা




