সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ইউরোপের অন্যতম উন্নত রেল পরিকাঠামোর দেশ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা (Spain Train Accident)। রবিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) দক্ষিণ স্পেনের আদামুজ় (Adamuz) শহরের কাছে দুই যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৫ জনেরও বেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। স্পেনের পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে (Oscar Puente) আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে দক্ষিণ স্পেনের কর্দোবা (Cordoba) প্রদেশের আদামুজ় শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মালাগা (Malaga) থেকে রাজধানী মাদ্রিদগামী (Madrid) একটি দ্রুতগামী ট্রেন আচমকাই লাইনচ্যুত হয়ে পাশের রেললাইনে উল্টে যায়। প্রবল গতিতে চলার কারণে ট্রেনটির একাধিক বগি পাশের লাইনে ছিটকে পড়ে। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে ওই একই লাইনে মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভা (Huelva)গামী আর একটি ট্রেন দ্রুত গতিতে ছুটে আসছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ সংঘর্ষ। দুর্ঘটনার অভিঘাতে দু’টি ট্রেনের সামনের একাধিক বগি দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিভীষিকাময় ছবি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে, ধোঁয়া ও ধুলোর মেঘে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় বহু মানুষ ট্রেনের ভিতরেই আটকে পড়েন।
সূত্রের খবর, যে ট্রেনটি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়, সেটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। অপর ট্রেনটিতে ছিলেন আনুমানিক ১০০ জন যাত্রী। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও চিকিৎসকরা। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আহতদের বার করে আনার কাজ চলে দীর্ঘ সময় ধরে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে। একাধিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্পেনের পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, যে জায়গায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেখানে কোনও তীক্ষ্ণ বাঁক বা দৃশ্যমান ত্রুটি নেই। এই কারণেই দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত বিস্ময়কর।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং রেল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, স্পেনের রেল পরিবহণ ব্যবস্থা মূলত বেসরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সেই কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ দাবি করেছে, রেললাইনের নিয়মিত পরিদর্শন ও আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট রেল সংস্থার পক্ষ থেকে এখনই কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। রেল দুর্ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ (Pedro Sanchez)। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘এই ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’ একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনা ইউরোপ জুড়ে রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের যুগে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবিক ভুলও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। স্পেনে অতীতেও একাধিক বড় রেল দুর্ঘটনার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা মৃতের সংখ্যার নিরিখে অন্যতম ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে।
আপাতত দুর্ঘটনাগ্রস্ত রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা স্পেন জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump, Trump 2000 dollars | “প্রতি আমেরিকান পাবেন ২ হাজার ডলার” বিস্ফোরক ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, শুল্ক আয়ের টাকা ফেরত দেবে ট্রাম্প সরকার




