শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) -এর মঞ্চে তা আবার প্রমাণ করে দিচ্ছেন ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar)। ৩৬ বছর বয়সেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) হয়ে তিনি এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন, যা তাঁকে বেগনি টুপি জয়ের দৌড়ে সবার আগে তুলে দিয়েছে। গত ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) -এর বিরুদ্ধে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলে ২১টি উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর। শুধু উইকেট সংখ্যাই নয়, তাঁর ইকোনমি রেটও নজরকাড়া। প্রতি ওভারে মাত্র ৭.৪৬ রান খরচ করে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, কীভাবে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মিশেলে টি-টোয়েন্টির মতো দ্রুতগতির ক্রিকেটেও নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।
নিজের এই সাফল্যের রহস্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভুবনেশ্বর বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমার ক্রিকেট ভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আমি পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ব্যাটারদের খেলার ধরন অনেক বদলে গেছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হয়েছে আমাকে। হয়তো সেই কারণেই এখনও সফল হতে পারছি।’ এক সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ রান বড় স্কোর হিসেবে ধরা হত। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। ভুবনেশ্বরের কথায়, ‘আগে ২০০ রান হলেই মনে হত ম্যাচ জেতার মতো স্কোর। এখন ২০০ রান তাড়া করা খুব কঠিন কিছু নয়।’ তাঁর এই মন্তব্য আধুনিক ক্রিকেটের পরিবর্তিত চিত্রকেই তুলে ধরে। শুধু খেলার ধরণ নয়, নিজের মানসিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বদল এনেছেন ভুবনেশ্বর। তিনি বলেন, ‘আগে কোনও ম্যাচে ৪০ রান দিলে খারাপ লাগত। এখন মনে হয়, এটা খুব খারাপ নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।’ এই মানসিক পরিবর্তনই তাঁকে আরও স্থির এবং কার্যকর করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২২ সালের পর থেকে ভারতীয় জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি ভুবনেশ্বর। তবুও তাঁর পারফরম্যান্সে কোনও ভাটা পড়েনি। কী ভাবে নিজেকে মোটিভেট করেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মোটিভেশন নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। আসল হল শৃঙ্খলা বজায় রাখা। প্রতিদিন নিজের কাজটা ঠিক ভাবে করে গেলে ফল পাওয়া যায়।’ এই বয়সে একজন পেসারের পক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখা সহজ নয়। ভুবনেশ্বরও সেই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, ‘বয়স বাড়লে শরীরের উপর চাপ বেশি পড়ে। ম্যাচের পর দ্রুত ফিট হয়ে ওঠা কঠিন হয়। তবে অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ বোঝার ক্ষমতা অনেক কিছু সহজ করে দেয়।’ বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনকার ব্যাটাররা প্রথম বল থেকেই আক্রমণ শুরু করে। ফলে বোলারদের সব সময় নতুন কিছু ভাবতে হয়।’ তাঁর মতে, ক্রিকেটের এই পরিবর্তন স্বাভাবিক এবং এর সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোতে হয়।
ভুবনেশ্বরের আইপিএল যাত্রার শুরু ২০০৯ সালে। তখন প্রথমবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলে সুযোগ পেলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এরপর দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালে আবার বেঙ্গালুরু দলে ফিরে আসেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন আমি নতুন ছিলাম, বড় বড় ক্রিকেটারদের দেখে একটু ভয় লাগত। এখন আমি দলের সিনিয়র। অনেক কিছু বদলে গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসা আমার কাছে বিশেষ। মনে হয় আমার ক্রিকেট জীবনের একটা পূর্ণ বৃত্ত তৈরি হয়েছে।’ এই মন্তব্যে তাঁর আবেগও ফুটে ওঠে।
আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে যেখানে তরুণ ক্রিকেটারদের দাপট বেশি, সেখানে ভুবনেশ্বরের মতো অভিজ্ঞ পেসারের এই সাফল্য আলাদা করে নজর কাড়ছে। তাঁর নিখুঁত লাইন-লেংথ, সুইং এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা তাঁকে এখনও বিপজ্জনক করে রেখেছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। দলের সাফল্যেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। প্লে-অফের দৌড়ে বেঙ্গালুরু এগোতে চাইলে ভুবনেশ্বরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আইপিএল ২০২৬-এ তাঁর এই পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং দেখিয়ে দিচ্ছে কী ভাবে অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম একজন ক্রিকেটারকে দীর্ঘ সময় শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : anorgasmia in women, no orgasm problem female | অর্গাজম না হওয়া নিয়ে মনের লড়াই! ‘অ্যানঅর্গাজমিয়া’ সমস্যায় ভুগছেন বহু মহিলা, সামনে এল বাস্তব চিত্র




