শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ক্রিকেট দুনিয়ায় এমন কিছু নাম আছে, যাদের উপস্থিতি মানেই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি হয়। ভারতের প্রাক্তন ওপেনার এবং বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম। ক্রিকেটার হিসেবে ফাইনাল ম্যাচে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কথা ক্রিকেটপ্রেমীরা বহুবার দেখেছেন। আর এবার কোচ হিসেবেও সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন। ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপ ও আইপিএল ফাইনালে অপরাজিত থাকার যে রেকর্ড ছিল, কোচ হিসেবেও সেটি অটুট রাখলেন গম্ভীর। ভারতীয় ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীরের নাম উচ্চারণ হলেই প্রথমেই মনে পড়ে যায় কয়েকটি ঐতিহাসিক ম্যাচ। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এখনও ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের পেছনে অন্যতম নায়ক ছিলেন গৌতম গম্ভীর। সেই ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ভারত শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে।
তারপর আসে ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের অন্যতম ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। রান তাড়া করতে নেমে তিনি খেলেছিলেন ৯৭ রানের অসাধারণ ইনিংস। যদিও তিন রান দূরে থেমে যাওয়ায় শতরান হয়নি। সেই ইনিংসকে এখনও বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে মনে করা হয়। ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে এই সাফল্যের পাশাপাশি আইপিএলেও তাঁর নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত সফল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক হওয়ার পর দলকে নতুন পরিচয় দেন গম্ভীর। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আইপিএল ট্রফি জেতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। সেই সময় আইপিএলে কেকেআরের সাফল্যের পেছনে তাঁর নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তকে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় আইপিএলে শিরোপা খরায় ভুগতে হয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কিন্তু আবারও সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান গৌতম গম্ভীর। ২০২৪ সালে কেকেআরের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলকে আবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেন। তাঁর কৌশল, দল নির্বাচন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের উপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত দলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেয়।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের পরই তাঁকে ভারতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, একজন আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রাক্তন ক্রিকেটার কোচ হিসেবে কতটা সফল হবেন? কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন গম্ভীর। ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরই তিনি প্রথম বড় সাফল্য পান। তাঁর কোচিংয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। সেই টুর্নামেন্টে ভারত অপরাজিত থেকেই শিরোপা জিতে নেয়। সেই জয় ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। আর এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতে নিল। রবিবার অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের কোচিং কেরিয়ারে যুক্ত হল আরেকটি আইসিসি ট্রফি। ক্রিকেটবিশ্লেষকদের মতে, গৌতম গম্ভীরের সবচেয়ে বড় শক্তি হল ফাইনাল ম্যাচে তাঁর মানসিকতা। তিনি সব সময়ই বিশ্বাস করেন যে বড় ম্যাচে সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচ জেতাতে পারে। তাঁর নেতৃত্বে এবং কোচিংয়ে দলকে সব সময় আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। একইভাবে আলোচ্য, ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে খুব কম ক্রিকেটারই আছেন যারা খেলোয়াড় এবং কোচ, দুই ভূমিকাতেই এতটা সফল হয়েছেন। গৌতম গম্ভীর সেই বিরল তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা থেকে শুরু করে আইপিএল ট্রফি জয় সব ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এখন কোচ হিসেবেও তাঁর লক্ষ্য ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করা। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া, দলের মানসিক শক্তি বাড়ানো এবং বড় ম্যাচে জেতার মানসিকতা তৈরি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই এখন বলছেন, গৌতম গম্ভীর যেন ফাইনাল ম্যাচের জন্যই জন্মেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে যেমন তিনি ফাইনালে কখনও হারেননি, তেমনই কোচ হিসেবেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রমাণ করেছেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে তিনি সবার থেকে আলাদা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India T20 World Cup 2026 Champions | বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের রাজত্ব! নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চাম্পিয়ন ভারত



