শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: যৌনতা নিয়ে সামাজিক সংকোচ এখনও বহু মানুষের জীবনে অদৃশ্য প্রাচীর হয়ে রয়েছে। সেই কারণে বহু শারীরিক ও মানসিক সমস্যাই আড়ালে থেকে যায়। এর মধ্যেই অন্যতম একটি বিষয় হল ‘অ্যানঅর্গাজমিয়া’ (Anorgasmia), যেখানে যৌন উত্তেজনার পরেও অর্গাজম বা চূড়ান্ত তৃপ্তির অভিজ্ঞতা হয় না। চিকিৎসা মহলে এই সমস্যার উল্লেখ বহুদিনের হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা এখনও সীমিত। এই প্রসঙ্গ সামনে আসে মেগান ওয়ার্ড (Megan Ward) নামে এক তরুণীর অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় (University of Birmingham) -এর ছাত্রী মেগান বহুদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু সামাজিক অস্বস্তি এবং সংকোচের কারণে কাউকে বলতে পারেননি। ২০১৩ সালে একটি ওয়েবসাইটে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
মেগান লিখেছিলেন, ‘যৌন উত্তেজনার শেষ পর্যায়েও আমি কখনও অর্গাজম অনুভব করতে পারিনি।’ তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর অনেক মহিলাই সামনে এসে একই সমস্যার কথা জানান। ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং বহু মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি ১০০ জন মহিলার মধ্যে প্রায় ১৫ জন এই সমস্যার সম্মুখীন হন। শুধু মহিলারাই নন, পুরুষদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যায়, তবে তুলনামূলকভাবে নারীদের ক্ষেত্রে এর হার বেশি। এই পরিসংখ্যান যৌন স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে নিয়ে আসে, যা এতদিন অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। অ্যানঅর্গাজমিয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শারীরিক কারণ যেমন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্নায়বিক সমস্যা বা নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব, এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে মানসিক ও সামাজিক কারণও এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। অনেক মহিলাই যৌন সম্পর্ককে আনন্দের বদলে দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। ফলে তাঁদের নিজের অনুভূতি বা চাহিদার গুরুত্ব কমে যায়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ‘যৌন মিলনের সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করতে পারলে তা অনেক সময় যান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।’ এই যান্ত্রিকতা দীর্ঘমেয়াদে অর্গাজমের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা না হওয়াও সমস্যার একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেগান ওয়ার্ড নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলেছেন, ‘এই বিষয়ে সঙ্গীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের অনুভূতি বোঝা এবং তা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগের অভাব থাকলে এই সমস্যার সমাধান আরও কঠিন হয়ে যায়।
সমাজে যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়ার ফলেও সমস্যাটি দীর্ঘদিন অদেখা থেকে যায়। অনেকেই মনে করেন এটি ব্যক্তিগত বিষয়, তাই তা নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। কিন্তু এর ফলে সমস্যার গভীরতা বাড়তে পারে। মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এমনকি সম্পর্কের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। চিকিৎসা মহলের মতে, এই সমস্যাকে লজ্জা বা অস্বস্তির চোখে না দেখে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সমস্যার মতোই দেখা প্রয়োজন। কারণ, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এর সমাধান সম্ভব। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যায়। একই সঙ্গে শরীরের হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, অতীতের কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা, এই সব কিছুও অ্যানঅর্গাজমিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তাই সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। কারণ এটি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে জড়িত। নিজের শরীরের প্রতি সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, এই অভ্যাসই সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে দেয়। আজকের দিনে যখন স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, তখন যৌন স্বাস্থ্যকেও সেই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। মেগান ওয়ার্ডের মতো অনেকেই সামনে এসে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, যা অন্যদেরও সাহস জোগাচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে সমাজে এই বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পথ তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, অ্যানঅর্গাজমিয়া কোনও বিরল সমস্যা নয়। বহু মানুষের জীবনের অংশ। তাই এটিকে লুকিয়ে না রেখে বুঝে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই হতে পারে সুস্থতার প্রথম ধাপ।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sex Island | আবারও খুলল বিতর্কিত ‘সেক্স আইল্যান্ড’, তিন রাত চার দিনের বিলাসবহুল ‘স্বপ্নযাত্রা’য় কী কী থাকছে?




