সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা রাজ্য। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ঘিরে সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সকাল সাড়ে ১১টায় সভাঘরে প্রবেশ করবেন এবং গার্ড অফ অনার গ্রহণ করার পরই শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সদ্য শপথ নেওয়া পাঁচ জন মন্ত্রী। প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে, আগের সরকারের সময়ে যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি, সেগুলি নতুন করে চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে বিতর্ক চলছিল। আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্প নিয়ে আগেও বহুবার সরব হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। তাদের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হয়নি, যার ফলে বহু মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই এই বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। আগের সরকারের এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা একরকম ছিল না। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বিকল্প একটি প্রকল্প চালু করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) নামের সম্ভাব্য প্রকল্প। নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে এই প্রকল্পের উল্লেখ ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে মাথাপিছু ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আলোচনা হতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, নতুন নামে পুরনো প্রকল্পের কাঠামো বদলে আরও বিস্তৃত রূপ দেওয়া হতে পারে। লক্ষ্য, সরাসরি মহিলাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারিক স্তরে অর্থনৈতিক স্থিতি তৈরি করা। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৈঠকের পরই জানা যাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা কার্যকর করা। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের দিকে কতটা দ্রুত এগোনো যায়, সেটাই এখন দেখার।
নবান্নের এই বৈঠক ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বৈঠকের প্রস্তুতি, সব কিছুই সাজানো হয়েছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ায় তা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বেশি। ৩০০০ টাকা মাসিক সহায়তা বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তই এই বিষয়ে স্পষ্ট দিক নির্দেশ করবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন নজরে রয়েছে। নবান্নের এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক দিক নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari cabinet expansion | শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সোমবার, নবান্নে প্রথম বৈঠকের জোর প্রস্তুতি, কারা পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দফতর?




