সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ম্যাচের ফলাফল কখনও কখনও একাধিক দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ঠিক তেমনই দৃশ্য দেখা গেল বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান প্রথম টেস্ট ম্যাচে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় শুধু তাদের নিজেদের অবস্থানই মজবুত করেনি, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Test Championship বা WTC) পয়েন্ট তালিকায় বড় সুবিধা করে দিয়েছে ভারতীয় দলকে। শুভমন গিলদের (Shubman Gill) দল এক ধাপ এগিয়ে এখন পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে, যেখানে পাকিস্তান পিছিয়ে গিয়ে নেমে গেছে সাত নম্বরে। বাংলাদেশের এই জয়ের আগে পয়েন্ট তালিকায় পাকিস্তান ছিল পাঁচ নম্বরে। কিন্তু হারের পর তাদের অবস্থান নেমে যায় নিচে, আর সেই জায়গা দখল করে নেয় ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশও বড় লাফ দিয়ে আট নম্বর থেকে উঠে এসেছে ছয় নম্বরে। ফলে টেস্ট বিশ্বকাপের দৌড়ে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন : WTC | India vs West Indies 1st Test | জাদেজা-সিরাজের আগুন বোলিংয়ে ইনিংস ও ১৪০ রানে জয় ভারতের
বর্তমান পয়েন্ট টেবলের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (Australia)। প্যাট কামিন্স (Pat Cummins) -এর নেতৃত্বাধীন দল আটটি টেস্ট খেলে পয়েন্ট শতাংশে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড (New Zealand), যারা কম ম্যাচ খেলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জোরে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) এবং চতুর্থ স্থানে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। এই চারটি দলের পরেই এখন ভারতের অবস্থান। ন’টি টেস্ট খেলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৪৮.১৫। যদিও শীর্ষে পৌঁছতে হলে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে, তবুও এই অগ্রগতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর এই উন্নতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto) -এর নেতৃত্বাধীন দল তিনটি টেস্ট খেলে পয়েন্ট শতাংশে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাদের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে যে, টেস্ট ক্রিকেটে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। অন্য দিকে, পাকিস্তানের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। শান মাসুদ (Shan Masood)-এর দল তিনটি টেস্ট খেলে এখন পয়েন্ট শতাংশে পিছিয়ে পড়েছে। তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাবই এই অবস্থার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে ইংল্যান্ডের (England) উপরেও। বেন স্টোকস (Ben Stokes)-এর নেতৃত্বাধীন দল এক ধাপ পিছিয়ে এখন অষ্টম স্থানে চলে গেছে। ১০টি টেস্ট খেলার পরও তারা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, যা তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। পয়েন্ট সিস্টেমের দিক থেকে দেখলে, একটি টেস্ট ম্যাচ জিতলে দল পায় ১২ পয়েন্ট। ম্যাচ ড্র হলে দুই দলই পায় ৪ পয়েন্ট করে। তবে শুধুমাত্র মোট পয়েন্ট নয়, বরং পয়েন্ট শতাংশের ভিত্তিতে দলগুলির অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, একটি দল যত পয়েন্ট অর্জন করেছে, তা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্টের তুলনায় কত শতাংশ, সেই হিসাবেই তালিকা তৈরি হয়। এই পদ্ধতির ফলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। একটি জয় বা হার শুধু পয়েন্ট নয়, পুরো শতাংশের হিসাব বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।
ভারতীয় দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল এই অবস্থান ধরে রাখা এবং আরও উপরে ওঠা। আগামী সিরিজ়গুলিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজ় ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারতীয় দল এখন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে দল গঠনের চেষ্টা চলছে। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই উন্নতির সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের এই জয় আবারও প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও দলকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিযোগিতা কতটা কঠিন, তাও সামনে এনে দিল এই ফলাফল। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই পরিবর্তন নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। পয়েন্ট তালিকার প্রতিটি পরিবর্তন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী ম্যাচগুলি আরও বেশি গুরুত্ব নিয়ে দেখা হবে, কারণ প্রতিটি ফলাফলই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salman Khan Farmhouse Inside, Shehnaaz Gill interview | সলমন খানের ফার্মহাউসের অন্দরে কী ঘটে? জানালেন শেহনাজ় গিল, ‘ওঁর সঙ্গে থেকেছি দু’দিন, উনি সত্যিই মাটির মানুষ’




