Assam Tea Workers Land Rights | চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার: অসম বিধানসভায় পাস বিল, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা বিরোধীদের

SHARE:

গোয়ালপাড়ার পবিত্র দ’দান থানে জনজাতীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ বিভাগ চালু করল অসম সরকার। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ও উন্নয়ন উদ্যোগ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমের দুই শতাব্দী পুরনো চা-শিল্পে নতুন ইতিহাস রচনার দিন হিসেবে শুক্রবারকে চিহ্নিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। দীর্ঘ আন্দোলন, দাবি-দাওয়া এবং বহু বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে চা শ্রমিক ও চা-বাগানবাসীদের ভূমি অধিকারের পথ খুলে দিল অসম বিধানসভা। কিন্তু এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তেও বিধানসভায় বিরোধীদের অশান্তি তৈরি করা, রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোড়ন তুলেছে বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sharma statement | সংবিধান দিবসে বড়ো ভাষায় সংবিধান প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্যোগে উচ্ছ্বাসে অসম, কৃতজ্ঞতা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

শুক্রবার অসম বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) স্পষ্ট ভাষায় জানান, চা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “অসমের চা-শিল্প গৌরবের সঙ্গে ২০০ বছর অতিক্রম করেছে। ইতিহাসে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর করা ভুল সংশোধন করে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, চা-বাগানের মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের পরিবর্তে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে শ্রমিকরা যেন তাদের যুক্তিসঙ্গত অধিকার পায়। আর আজ সেই দীর্ঘদিনের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে চা শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়ার যে প্রয়াস আমরা নিয়েছিলাম, তা আজ বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, চা শ্রমিকদের রাজনৈতিক অবদান ঐতিহাসিক হলেও তাঁদের অধিকার ততদিনই বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। তিনি সমাজ মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, “অতীতে কংগ্রেস (Congress) দলকে শাসনে আনার ক্ষেত্রে চা শ্রমিকদের অবদান ছিল সর্বাধিক। কিন্তু তারাই চা শ্রমিক এবং আদিবাসী সমাজকে ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল।”

চা-বাগানের মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক বরাবরই অসমের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজ্য সরকারের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল নীতি শ্রমিকদের মৌলিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) তাই এই বিলকে শুধু আইন নয়, বরং ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত বলেই অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার দেওয়ার মতো মহৎ উদ্দেশ্যে আমরা যখন এই বিলটি গ্রহণের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি, তখন আজ বিধানসভায় বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য যে অশান্তিময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, তা নিয়ে আমরা লজ্জিত। তারা যাই পদ্ধতি অবলম্বন করুন না কেন, চা শ্রমিক এবং আদিবাসী সমাজকে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করার লক্ষ্য থেকে আমাদের সরিয়ে রাখতে পারবে না।”

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বিল পাশ হওয়ার মাধ্যমে চা-বাগান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ল্যান্ড টাইটেল’ সমস্যার অবসান ঘটবে। চা শ্রমিক পরিবারের বহু প্রজন্ম একই বাগানে বসবাস করলেও তাঁদের মালিকানা বা ভূমি অধিকার ছিল না। ফলে ঘর তৈরির অনুমতি, সরকারি সহায়তার সুবিধা পাওয়া, উন্নয়নের প্রকল্পে অংশগ্রহণ- সবই ছিল সীমাবদ্ধ। নতুন বিল কার্যকর হলে শ্রমিকরা তাঁদের আবাসভূমির বৈধ অধিকার পাবেন এবং সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাগান এলাকায় ভূমির অধিকার নিশ্চিত হলে চা শ্রমিকদের আর্থিক স্বাধীনতা বাড়বে, সমাজের প্রান্তিক অবস্থান থেকে তারা আরও এগিয়ে আসতে পারবেন। একইসঙ্গে আবাসিক স্থানে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নেও সুবিধা হবে। এদিকে বিরোধী দলগুলির দাবি, বিলটি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, কত সময়ে শ্রমিকরা বাস্তবে জমির কাগজ হাতে পাবেন, এই সব বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার মনে করে, বিরোধীদের আচরণ আজকের বিশেষ মুহূর্তকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা মাত্র।

চা শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘মাইলস্টোন’ বলে অভিহিত করেছেন। সংগঠনের একজন নেতা জানান, এতদিন যে অধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঞ্চিত ছিল, তা অবশেষে স্বীকৃতি পেল। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল শ্রমিকদের সম্মানই বাড়াবে না, বরং অসমের চা শিল্পকেও আরও শক্তিশালী করবে।রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভোট রাজনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। অসমে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি চা শ্রমিক বাস করেন। তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ফলে ভূমির অধিকার প্রদান শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তাও বটে।

শুক্রবার যে বিলটি পাশ হল, তা অসমের চা শ্রমিকদের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, এ কথা বলাই যায়। বছরের পর বছর ধরে চা বাগানের জমিতে শ্রম, ঘাম এবং পরিশ্রম ঢেলে দেওয়া হাজার হাজার পরিবার এখন নিজেদের মাথার ওপরে থাকা ছাদের বৈধ অধিকার পাবে। আর এভাবেই দুই শতাব্দী আগে ইংরেজদের গড়া চা শিল্পের ভিতরে জমে থাকা দাসত্বের ছায়া শেষ হতে যাচ্ছে, মনে করছে অনেকেই। উল্লেখ্য, অসমের চা-উদ্যোগের ২০০ বছর পূর্তির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজ্যবাসী।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : D’Dan Than Assam, Himanta Biswa Sarma | দ’দান থানে জনজাতীয় বিশ্বাস সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News