সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কর্ণাটকের আধ্যাত্মিক শহর উড়ুপি শুক্রবার রাজনৈতিক ও কৌশলগত বক্তব্যে আরও একবার উত্তাল হয়ে উঠল। শ্রীকৃষ্ণ মঠে দর্শন সেরে সভামঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন নতুন প্রতিরক্ষা ধারণা, ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra)। ভগবদ্গীতার শিক্ষা থেকে শুরু করে দেশের সুরক্ষার নীতি—সবকিছুকে একসূত্রে গেঁথে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “শত্রু দুঃসাহস দেখালেই আমাদের সুদর্শন চক্র তাকে ধ্বংস করে দেবে।”
উড়ুপির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, “শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধক্ষেত্রেই গীতার উপদেশ দিয়েছিলেন। গীতা আমাদের শেখায়, শান্তি ও সত্য রক্ষার জন্য অত্যাচারীদের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। দেশের প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তিও এই শিক্ষা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বসুধৈব কুটুম্বকম- এই মন্ত্রকে মানি। একইসঙ্গে মনে রাখি, ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ। আমরা করুণা গ্রহণ করি, তবে অত্যাচারের কাছে নতি স্বীকার করি না।” এরপরই মোদী লালকেল্লার (Red Fort) উদাহরণ টেনে বলেন, “ওই ঐতিহাসিক প্রাচীর থেকেই আমরা ঘোষণা করেছি মিশন সুদর্শন চক্র। দেশের বিশেষ অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো এবং সর্বজনীন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে এমন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে, যা ভেদ করতে পারবে না কোনও শক্তি। আর যদি শত্রু দুঃসাহস দেখায়, তাহলে আমাদের এই সুদর্শন চক্র তার অস্তিত্বই মুছে দেবে।”

মোদীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নতুন ভারত শত্রুর তৎপরতা বরদাস্ত করবে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তুলে ধরেন অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) -এর প্রসঙ্গ। সাম্প্রতিক পহেলগাঁও (Pahalgam) সন্ত্রাসী হামলায় বহু ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন, সেই বেদনাও উঠে আসে তাঁর কণ্ঠে। মোদী বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে দেশ আমাদের সংকল্প দেখেছে। পহেলগাঁওয়ের হামলায় বহু পরিবার ভেঙে গেছে। আমার কর্ণাটকের ভাইবোনরাও প্রাণ দিয়েছেন। আগে হামলা হলে তখনকার সরকার চুপচাপ বসে থাকত। কিন্তু এটা নতুন ভারত- এ দেশ কারও সামনে মাথা নত করে না। দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতে আমরা কোনওদিন পিছপা হই না।” প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সরকার শান্তির পথে থাকলেও প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক ক্ষমতায় কোনও ছাড় দেবে না। তাঁর দাবি, “শক্তি ও শান্তি- দুই মিলিয়েই ভারতের ভবিষ্যৎ রচিত।”
এদিকে, একইদিন দিল্লিতে অন্য এক অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও (Rajnath Singh) শক্ত বার্তা দেন। দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস হয় না। কোনওদিন হবেও না।” রাজনাথ সিং আরও বলেন, “ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বারবার প্রমাণ করেছে, তারা সক্ষম, প্রস্তুত এবং তৎপর। আমাদের শক্ত ভরসা ও দৃঢ় সিদ্ধান্তই সীমান্তে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য মোদীর ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে আরও একবার স্পষ্ট করে দেয়, ভারত নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানেই আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। উড়ুপির আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রী যে উচ্চকিত প্রতিরক্ষাবাদী বার্তা দিলেন, তা রাজনৈতিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, কৌশলগতভাবেও ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ভারতের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির একটি শক্তিশালী প্রতীকী ঘোষণা, যা ভবিষ্যতে আরও পরিস্কার রূপ পেতে পারে।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, এই ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, আর এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোন বৃহত্তর রূপ ধারণ করবে। তবে একথা নিশ্চিত, উড়ুপির সভা থেকে মোদী পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারত শান্তিপ্রিয় হলেও শক্তির ব্যবহারে কখনও দ্বিধাগ্রস্ত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Deaflympics India, Tokyo 2025, Narendra Modi Facebook Post | ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাসে দেশ, টোকিও ডেফলিম্পিকসে ভারতীয়দের ২০ পদক, প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিশেষ অভিনন্দন বার্তা




