সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এল। বহু বছর আগে ভারত থেকে চুরি হয়ে বিদেশে পৌঁছে যাওয়া প্রাচীন শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবার দেশে ফিরতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া (Australia) সরকার জানিয়েছে, তারা ধাপে ধাপে এই মূল্যবান ঐতিহ্য ভারতের হাতে তুলে দেবে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হোম, ইমিগ্রেশন ও আর্টস মন্ত্রী টনি বার্ক (Tony Burke) এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘এগুলো ধরে রাখা আসলে চুরির সমান। এগুলো ভারতের, তাই ভারতেই ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।’ তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক নীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের ইতিহাস বহু প্রাচীন, সেই ইতিহাসের অংশ যেসব নিদর্শন, সেগুলো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই থাকা দরকার।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। সেই আলোচনার ফলস্বরূপই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সরকার বিভিন্ন দেশের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল, যাতে অবৈধভাবে পাচার হওয়া শিল্পকর্ম ফেরত দেওয়া হয়। এবার সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি এসেছে। সূত্রের খবর, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গ্যালারি, বিভিন্ন জাদুঘর এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা বহু ভারতীয় নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন মূর্তি, মন্দিরের অলঙ্কৃত খোদাই, পাথরের ভাস্কর্য এবং ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি। এদের মধ্যে কিছু নিদর্শন শতাধিক বছর ধরে বিদেশে সংরক্ষিত। এখন সেগুলোর একটি বড় অংশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এটা কেবল কয়েকটি বস্তু ফিরে পাওয়ার বিষয় নয়, আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার।’ তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে ফিরে আসা শিল্পকর্মগুলো বিভিন্ন জাদুঘরে রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। টনি বার্ক আরও বলেন, ‘আমরা চাই সাংস্কৃতিক সম্পদ তার উৎসস্থলেই থাকুক। অস্ট্রেলিয়া এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে।’ তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি দিকগুলি দ্রুত সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলিও একই পথে হাঁটতে উৎসাহ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর ভারতের বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করছেন, ‘এটি কেবল কূটনৈতিক সাফল্য নয়, সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তাঁদের মতে, ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বহু মূল্যবান নিদর্শন বিদেশে চলে গেছে, এখন সেগুলো ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যেও এই খবর উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। সিডনি (Sydney) ও মেলবোর্ন (Melbourne)-এর ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির অংশ দেশে ফিরছে, এটা গর্বের বিষয়।’ তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে আবেগের সংযোগ আরও দৃঢ় করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতাও এখন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাংস্কৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র (United States), যুক্তরাজ্য (United Kingdom) সহ একাধিক দেশের কাছ থেকে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম ফেরত পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে গেল। ফলে ভবিষ্যতে আরও বহু নিদর্শন দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধুমাত্র অতীতের স্মারক নয়, এটি একটি দেশের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করার প্রয়াসে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যে কতটা জরুরি, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US tariff on India Russia oil | রাশিয়ার তেল কেনায় ১০০% শুল্কের প্রস্তাব, ভারত-চিনকে ঘিরে নতুন মার্কিন কৌশল নিয়ে জোর জল্পনা




