Supreme Court pornography ruling India, porn ban India verdict | প*র্নোগ্রাফি পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পছন্দ, নৈতিকতা এবং আইনের সীমারেখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। প*র্নোগ্রাফি (Pornography) নিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সারা দেশে একযোগে পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যায় না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। মামলার আবেদনকারী পক্ষের দাবি ছিল, অনলাইনে অবাধে পর্নোগ্রাফির প্রাপ্যতা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁদের বক্তব্য, তরুণ প্রজন্মের মানসিক গঠনে এর প্রভাব পড়ছে, যৌন আচরণে বিকৃতি দেখা দিচ্ছে এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আবেদনকারী দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানান। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং জানায়, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিসরে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

আরও পড়ুন : India Magnet free EV Motor | চীনের একচেটিয়া আধিপত্যে ধাক্কা! বিরল ধাতু ছাড়াই শুধু সফটওয়্যারে ইভি মোটর তৈরি করল ভারত

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করে, ‘প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে কী দেখবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার তাঁরই রয়েছে। রাষ্ট্র সেই জায়গায় ঢুকে পড়তে পারে না।’ আদালত আরও বলে, ‘আমরা নৈতিকতার রক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারি না। আইন যেখানে প্রযোজ্য, সেখানেই আমাদের সীমাবদ্ধতা।’ এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আদালত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তবে আদালত একথাও জানিয়ে দিয়েছে যে, সব ধরনের পর্নোগ্রাফি আইনের বাইরে নয়। শিশুদের সঙ্গে যুক্ত কোনও কনটেন্ট, জোরপূর্বক বা অসম্মতির ভিত্তিতে তৈরি দৃশ্য কিংবা নারী নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান আইনত দণ্ডনীয় এবং সেই ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত জানিয়েছে, ‘যেখানে অপরাধ রয়েছে, সেখানে আইন প্রয়োগ হবে। কিন্তু সবকিছুকে একসঙ্গে নিষিদ্ধ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।’

এই রায়ের পর বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। একাংশের মতে, ইন্টারনেটের বিস্তারের যুগে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রায় অসম্ভব। তাঁদের বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ব্যবহারকারীরা নানা উপায়ে কনটেন্টে পৌঁছে যান, ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সমাজের একাংশ এই রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি, অবাধ পর্নোগ্রাফি তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে এবং সম্পর্কের ধারণায় পরিবর্তন আনছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, কিশোর-কিশোরীরা সহজেই এই ধরনের কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারছে, যা তাঁদের মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। এক মনোবিদের কথায়, ‘অতিরিক্ত আসক্তি তৈরি হলে তা ব্যক্তির আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।’ এই মতামতও আলোচনায় উঠে এসেছে। সরকারি মহল জানিয়েছে, আদালতের রায়কে সম্মান জানানো হবে। একই সঙ্গে অবৈধ কনটেন্ট, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক উপাদানের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় থাকবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের ওপর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা এবং সস্তা ডেটা পরিষেবার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন অনলাইনে সময় কাটান। এই বাস্তবতায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন বলেই মনে করছে অনেক মহল। আদালতের পর্যবেক্ষণ সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে। এই মামলাটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা সম্ভব। একদিকে ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দের অধিকার, অন্যদিকে সমাজের সামগ্রিক প্রভাব, এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সেই জটিল সমীকরণের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

আইনবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নিয়ে আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে, যাতে একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় থাকে, অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যায়। ডিজিটাল যুগে এই ধরনের প্রশ্ন আরও বাড়বে বলেই ধারণা। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব নয়। তবে আইনের সীমারেখা লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক ও আইনি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে দিল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Supreme Court India, Kolkata High Court verdict | সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখল হাইকোর্টের রায়, বাংলায় ফের শুরু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন