সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের শেষ লড়াই ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। ফিফা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা (Argentina) ও স্পেন (Spain)-এর মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রধান রেফারির দায়িত্ব সামলাবেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ ম্যাচ অফিসিয়াল স্লাভকো ভিনচিচ (Slavko Vincic)। ঘোষণার পর থেকেই ফুটবল মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এই রেফারিই আগের বিশ্বকাপে মেসিদের একটি স্মরণীয় ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা (Pierluigi Collina) এই নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্লাভকো ভিনচিচকে। তিনি সোনালি ডোরা-সহ বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামবেন।’ তাঁর কথায়, এই নিয়োগ যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তার পরই করা হয়েছে। ভিনচিচের সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে থাকছেন তাঁরই দেশের তোমাজ ক্লানচনিক (Tomaz Klancnik) ও আন্দ্রাজ কোভিচিচ (Andraz Kovacic)। চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জর্ডনের আদহাম মাখাদমেহ (Adham Makhadmeh)। রিজার্ভ সহকারী হিসেবে থাকবেন কাতারের মোহাম্মদ আলকালাফ (Mohammed Al-Kalaf)। ফলে এশিয়া থেকেও ম্যাচ পরিচালনায় প্রতিনিধিত্ব থাকছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারসাম্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নিয়োগ ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ, ভিনচিচের সঙ্গে আর্জেন্টিনার আগের একটি অভিজ্ঞতা। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম সৌদি আরব (Saudi Arabia) ম্যাচে তিনিই ছিলেন রেফারি। সেই ম্যাচে ১-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল লিওনেল মেসির (Lionel Messi) দল। যদিও সেই হারের জন্য রেফারির সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হয়নি, তবুও একই রেফারির হাতে ফাইনালের দায়িত্ব যাওয়ায় নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ভিনচিচ ইতিমধ্যেই তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল (Brazil) বনাম মরক্কো (Morocco) এবং জর্ডন (Jordan) বনাম আলজেরিয়া (Algeria) ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি নকআউট পর্যায়ে মেক্সিকো (Mexico) বনাম ইকুয়েডর (Ecuador) ম্যাচেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ফাইনাল হবে তাঁর এই টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচ, যা তাঁর অভিজ্ঞতার উপর আস্থা রাখারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্য দিকে স্পেন দলের সঙ্গেও ভিনচিচের পরিচিতি রয়েছে। ২০১৭ সালে কলম্বিয়া (Colombia)-র বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্পেনের খেলা পরিচালনা করেছেন তিনি। ২০২০ ইউরো কাপে স্পেন বনাম সুইডেন (Sweden) ম্যাচে ছিলেন তিনি। আবার ২০২৩ সালে উয়েফা নেশনস লিগ (UEFA Nations League)-এর সেমিফাইনালে স্পেন বনাম ইতালি (Italy) ম্যাচেও দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ ইউরোতেও ইতালি-স্পেন ম্যাচ এবং ফ্রান্স (France) বনাম স্পেন সেমিফাইনালে তাঁর উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।
ফুটবল জগতের অনেকের মতে, এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ফাইনালের মতো উচ্চচাপের ম্যাচের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। যদিও বড় ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন দুই শক্তিশালী দল মুখোমুখি হয়। আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত, ফলে ম্যাচের গতি দ্রুত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে রেফারির ভূমিকা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফিফার তরফে জানানো হয়েছে, ফাইনাল ম্যাচে আধুনিক প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার করা হবে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে। এর ফলে বিতর্কের সম্ভাবনা কমানোই লক্ষ্য।
এবারের ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। এক দিকে মেসির আর্জেন্টিনা, অন্য দিকে ইউরোপীয় শক্তি স্পেন, এই লড়াই যে স্মরণীয় হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সেই মঞ্চে স্লাভকো ভিনচিচের সিদ্ধান্ত, ম্যাচ পরিচালনার ধরন এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা নজরে থাকবে সকলের।তবে, ফুটবল ইতিহাসে বহুবার দেখা গিয়েছে, ফাইনালের মতো ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই এই নিয়োগের দিকে কেবল দুই দলের সমর্থকই নয়, নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। ভিনচিচ কী ভাবে এই দায়িত্ব সামলান, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন: France vs Spain semifinal, Mbappe no shot on target, World Cup France loss | শটহীন এমবাপে! স্পেনের কাছে ভরাডুবিতে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙল ফ্রান্সের, আঙুল উঠছে কিলিয়ান এমবাপের দিকে



