France vs Spain semifinal, Mbappe no shot on target, World Cup France loss | শটহীন এমবাপে! স্পেনের কাছে ভরাডুবিতে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙল ফ্রান্সের, আঙুল উঠছে কিলিয়ান এমবাপের দিকে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও হতাশার ছবি। গত আসরে ফাইনালে হারের দগদগে স্মৃতি এখনও তাজা ছিল, আর এ বার সেমিফাইনালেই থেমে গেল ফ্রান্সের (France) অভিযান। স্পেনের (Spain) বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হার মেনে বিদায় নিতে হল বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত তারকা কিলিয়ান এমবাপেদের (Kylian Mbappe)। তবে এই হারের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটাই নাম, এমবাপে। পরিসংখ্যান বলছে, দলের আক্রমণের প্রধান মুখ হয়েও তিনি ম্যাচে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশ্বকাপ জুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে অনেকেই অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছিলেন। বিশেষ করে এমবাপে, উসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembele), মাইকেল ওলিসে (Michael Olise) ও ব্র্যাডলি বার্কোলা (Bradley Barcola) -এর আক্রমণভাগকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে সেই আক্রমণভাগকেই প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সের ছন্দ কেটে দিতে সক্ষম হয় প্রতিপক্ষ।

আরও পড়ুন : Argentina comeback, Messi semifinal victory | ৮৪ মিনিটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, মেসির মুখে জয়ের আসল রহস্য

প্রথমার্ধেই ধরা পড়ে সমস্যার চিত্র। মাঠে উপস্থিত থাকলেও এমবাপের প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। অন্যান্য ফুটবলারের তুলনায় সবচেয়ে কম বার বল স্পর্শ করেছিলেন তিনি। ম্যাচ যত এগিয়েছে, সেই চিত্র বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৪ বার বল পেয়েছেন ফরাসি তারকা। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে এই সংখ্যা যথেষ্ট কম বলেই মনে করছেন অনেকে। শুধু বল পাওয়া নয়, গোলমুখে তাঁর উপস্থিতিও প্রশ্নের মুখে। স্পেনের বিরুদ্ধে এমবাপে তিনটি শট নিলেও, একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। গোলে একটি শটও না থাকা এমন ম্যাচ তাঁর কেরিয়ারে বিরল। অথচ এই টুর্নামেন্টেই তাঁর নামের পাশে ছিল আট গোল। ফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর এই পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শুরু করেছে। ড্রিবলিংয়েও দেখা যায় ব্যর্থতার ছবি। ম্যাচে ছ’বার ড্রিবল করার চেষ্টা করেন এমবাপে, যার মধ্যে সফল হয়েছেন মাত্র একবার। বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সামনে বারবার আটকে যেতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি তাঁর পা থেকে ১৪ বার বল কেড়ে নেয় স্পেনের ফুটবলাররা। যা একজন শীর্ষ পর্যায়ের ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

তবে শুধু এমবাপে নন, গোটা ফরাসি আক্রমণভাগই এ দিন হতাশ করেছে। দেম্বেলে, ওলিসে এবং বার্কোলার পারফরম্যান্সও প্রত্যাশার ধারেকাছেও পৌঁছয়নি। বরং বল হারানোর নিরিখে এমবাপের চেয়েও খারাপ পরিসংখ্যান রয়েছে তাঁদের। দেম্বেলে ও লেমিনে ইয়ামাল (Lamine Yamal) দু’জনেই ১৭ বার করে বল হারান, ওলিসে হারান ২০ বার। ফলে স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে ফ্রান্সের আক্রমণ যেন বারবার থমকে যায়। এই ম্যাচের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ফ্রান্সের আক্রমণ গঠনের সামগ্রিক ব্যর্থতা। সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল ছিল ফ্রান্স, মোট ১৬টি গোল। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁদের প্রত্যাশিত গোলের সম্ভাবনা নেমে আসে মাত্র ০.৩ শতাংশে। সেই অল্প সম্ভাবনার মধ্যেও এমবাপের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। তবুও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি।

ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা হতাশার ছাপও দেখা যায় এমবাপের আচরণে। ৮৬ মিনিটে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে (Unai Simon) ফাউল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাঁকে। সেই মুহূর্তে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, গোলে শট না থাকলেও আক্রমণের চেষ্টা অন্তত তাঁর দিক থেকেই কিছুটা দেখা গিয়েছিল। কারণ দলের বাকি আক্রমণভাগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিস্তেজ ছিল। ফলে ম্যাচের শেষে সমালোচনার বড় অংশ তাঁর দিকে গেলেও, সামগ্রিক দলগত ব্যর্থতাও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার (Argentina) বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন এমবাপে। হারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল। কিন্তু এ বারের বিদায় সেই স্মৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের ছাপ রাখতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। স্পেনের রক্ষণ ও মাঝমাঠের দাপটে ফ্রান্সকে কার্যত ছায়া দলের মতো দেখিয়েছে। বল দখল, গতি নিয়ন্ত্রণ, পাসিং সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্পেন। ফলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমবাপের মতো ফুটবলারের কাছ থেকে যে নেতৃত্ব আশা করা হয়েছিল, তা এ দিন দেখা যায়নি বলেই মত অনেকের।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয়বার হতাশা নিয়ে ফিরতে হল এমবাপেকে। বয়স এখনও ২৭, সামনে আরও সুযোগ রয়েছে। তবে এই ম্যাচ তাঁর কেরিয়ারের এক কঠিন অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে। ফ্রান্সের সমর্থকদের কাছেও এই হার দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Argentina comeback, Messi semifinal victory | ৮৪ মিনিটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, মেসির মুখে জয়ের আসল রহস্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন