সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ আটলান্টা : বিশ্বকাপ মঞ্চে এমন নাটকীয় লড়াই খুব কমই দেখা যায়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা, আবেগ আর ইতিহাসের চাপ, সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য সেমিফাইনাল সাক্ষী থাকল ফুটবল দুনিয়া। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি (Lionel Messi) জানালেন, ‘এই জয় শুধু আমাদের নয়, গোটা আর্জেন্টিনার মানুষের।’ স্বাভাবিকভাবেই, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই চাপ, আর প্রতিপক্ষ যদি ইংল্যান্ড (England) হয়, তাহলে সেই চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবল ইতিহাস, অতীতের দ্বৈরথ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই ম্যাচকে অন্য মাত্রা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচ জেতা যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সেই কঠিন কাজই করে দেখাল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় তারা ও দ্বিতীয়ার্ধেও সেই লিড ধরে রাখে। সময় গড়াতে থাকায় চাপ বাড়ছিল আর্জেন্টিনার উপর। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। শেষ কয়েক মিনিটে আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা এবং অবশেষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘এই ম্যাচটা শুধু একটা সাধারণ ম্যাচ ছিল না। সমর্থকেরা এই জয় চেয়েছিল। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দ আলাদা। আমরা জানতাম আমাদের জিততেই হবে।’ তাঁর কথায় ধরা পড়ে দলের দৃঢ় মনোবল এবং জয়ের তীব্র ইচ্ছা।
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল একাধিকবার পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছে। কাবো ভার্দে (Cape Verde) -এর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জয়, মিশর (Egypt)-এর বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও ফিরে আসা, এই সব অভিজ্ঞতা দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। তবে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
মেসি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও হাল ছাড়ি না। হারার ভয় আমাদের নেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করাই আমাদের লক্ষ্য।’ এই মানসিকতাই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয়। প্রতিপক্ষের মাঠেই তাদের চাপে ফেলে জয় ছিনিয়ে আনে দল। সংযুক্তি সময়ে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ় (Lautaro Martinez)। তাঁর সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনাল টিকিট। ম্যাচ শেষে আবেগে ভেসে যান মার্তিনেজ়। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা জিতেছি। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, হাল ছাড়িনি।’ তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ আর স্বস্তির মিশেল।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন মানসিক শক্তির পরিচয়। ১৯৬৬ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি, দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন নতুন করে ফিরে আসে এই ম্যাচে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এই জয়। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচ অনেকদিন মনে থাকবে। শেষ মুহূর্তের লড়াই, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলের ঐক্য এক রোমাঞ্চকর পর্বের রচনা করল আর্জেন্টিনা। মাঠে যেমন লড়াই হয়েছে, তেমনি দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছে এই ম্যাচ।
এবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন (Spain)। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে দল। মেসির নেতৃত্বে দল যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, তাতে ফাইনাল নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। ফুটবলবিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে আরেকটি মহারণের। আর্জেন্টিনার এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হয় তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ফল কী হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল মেসিদের দল।
ছবি : সংগৃহীত



