Voter list removal citizenship India, Supreme Court ruling voter list | ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই নাগরিকত্ব যাবে না: সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, জানল দেশ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant) -এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই কোনও ব্যক্তি নাগরিকত্ব হারিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। আদালতের এই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই মামলাটি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ট্রাইবুনালের শুনানি পদ্ধতি আরও সুসংগঠিত করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে উঠে আসে। অভিযোগে বলা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ফলে বহু মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) -এর মতো প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : India Women Lords Test win, Harmanpreet Kaur Test victory | লর্ডসে ইতিহাস ভারতের: হরমনপ্রীতদের ২৭০ রানের দাপট, মহিলাদের প্রথম টেস্টেই ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে নজির

শুক্রবার এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি ভি মোহন (V Mohan)-এর বেঞ্চে। শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) -এর ভূমিকা সীমিত। তারা ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং সংশোধনের দায়িত্বে থাকলেও কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার অধিকার তাদের হাতে নেই। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) বিহারের এসআইআর মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিতে পারে না।’ তাঁর মতে, যদি কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় ও সেই কারণে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে পাঠানো প্রয়োজন।

আইনি মহলের সূত্রে
খবর, আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ধরনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act)-এর আওতায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, ‘এই ধরনের বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে পাঠানো কমিশনের দায়িত্ব। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তির মর্যাদা বহাল রাখতে হবে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘ভোটার তালিকায় নাম না রাখার সিদ্ধান্ত কমিশন নিতে পারে, তবে তাতে কারও নাগরিকত্ব নিজে থেকে শেষ হয়ে যায় না।’ এই পর্যবেক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আদালতের এই মন্তব্য সেই উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে বহু মানুষ সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধা এবং সামাজিক সুরক্ষার নানা দিক এতে প্রভাবিত হচ্ছে। আদালত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন, রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করেছে। আইনি ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ (Live Law) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ভোটার তালিকা এবং নাগরিকত্ব, এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। কারণ ভোটার তালিকা একটি প্রশাসনিক নথি, যেখানে নাম অন্তর্ভুক্ত বা বর্জনের প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত হয়। কিন্তু নাগরিকত্ব নির্ধারণ একটি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া, যার জন্য পৃথক আইন ও কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

এই মামলার শুনানির পর আইনজীবী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যায়, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নে কোনও ব্যক্তিকে সরাসরি বঞ্চিত করার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, শুনানি ও সিদ্ধান্তের ধাপগুলি রয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট হয়ে ওঠে।

সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই পর্যবেক্ষণ একটি দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব পাওয়ার পর আদালত এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত নির্দেশ দিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | ৪০ বছর পর ঐতিহাসিক সফর: কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন