Suvendu Adhikari Darjeeling Hills Visit | পাহাড়ে প্রথম সফরে উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর, কার্শিয়াঙ থেকে চা-বাগান খোলা-সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দার্জিলিং : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার দার্জিলিং পাহাড়ে সফর করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙ (Kurseong) -এর সভা থেকে পাহাড়বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, চা-বাগান পুনরুজ্জীবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, নানা প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর ছিল তাঁর ভাষণ। পাশাপাশি আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে নতুন প্রশাসনের পরিকল্পনার রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে বাগডোগরা (Bagdogra) বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে কার্শিয়াঙে যান শুভেন্দু। মন্টেভিট গ্রাউন্ড (Monteviot Ground) -এর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে আমি ভ্রমণের জন্য আসিনি, কাজ করতে এসেছি।’ তাঁর কথায়, পাহাড়বাসীর যে আস্থা বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর উপর রয়েছে, তা পূরণ করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন : BGBS controversy West Bengal, Suvendu Adhikari BGBS investigation | ‘বিজিবিএস’-এ ৬৩৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন! তদন্ত ও মামলার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, চাপে মমতা জমানার আয়োজন

শুভেন্দু স্মরণ করিয়ে দেন, ‘২০০৯ সাল থেকে পাহাড়ে পদ্মের প্রতি মানুষের সমর্থন বজায় রয়েছে।’ তাঁর মতে, এই আস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়া হবে। তিনি জানান, রাজ্য সরকার পাহাড়ের জন্য একটি সুসংহত উন্নয়ন রূপরেখা তৈরি করছে, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের উপর জোর দেওয়া হবে। চা-শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধ হয়ে থাকা ২৫টি চা-বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর হয়নি। তাঁর কথায়, ‘২০২১ সালে চালু হওয়া পিএম চা-শ্রমিক যোজনার সুবিধা পাহাড়বাসী পায়নি।’ এখন সেই প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘সব বন্ধ চা-বাগান খুলে দেওয়া হবে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে।’ চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik), স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা (Bishal Lama), অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ (Anandamay Barman), সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista), হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (Harsh Vardhan Shringla) সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়াও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (Gorkha Janmukti Morcha) -এর নেতা বিমল গুরুং (Bimal Gurung), রোশন গিরি (Roshan Giri), জিএনএলএফ (GNLF) -এর মন ঘিসিং (Mann Ghising) এবং অন্যান্য নেতার উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে পাহাড়ে উন্নয়নের বদলে দুর্নীতি বেড়েছিল। তাঁর মন্তব্য, ‘তোলাবাজি ও কাটমানির রাজত্ব চলেছে। নতুন সরকার সেই সংস্কৃতি বরদাস্ত করবে না।’ জিটিএ (GTA)-তে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির তদন্ত হবে ও দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে।’ এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে এবং কোনও রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পাশাপাশি তিনি জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়া হবে।

শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। কালিম্পং (Kalimpong)-এ মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা, কার্শিয়াঙ হাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এছাড়া ‘খেলো ইন্ডিয়া’ (Khelo India) প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেন। গোর্খা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘গোর্খাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।’ এই ঘোষণা পাহাড়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দার্জিলিং (Darjeeling) লোকসভা কেন্দ্রে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে। ২০০৯ সালে যশবন্ত সিংহ (Yashwant Sinha), ২০১৪ সালে সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া (Surendra Singh Ahluwalia) এবং ২০১৯ সালে রাজু বিস্তা জয়ী হন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘পাহাড়বাসীর সমর্থনের ঋণ শোধ করার সময় এসেছে।’

মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত উত্তরবঙ্গে আসবেন। কার্শিয়াঙের সভা থেকে সেই প্রতিশ্রুতি পুনরায় তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘প্রতি মাসে অন্তত একবার উত্তরবঙ্গ সফর করব।’ এই ঘোষণার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পাহাড়ে এই সফর শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari industry Bengal | নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি নয়, শান্তির পথেই শিল্পায়ন, টাটাকে ফেরানোর আশ্বাসে নতুন বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন