সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ বা বিজিবিএস ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। এবার সরাসরি আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত তুলে তদন্তের কথা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর আমলে এই সম্মেলনের আয়োজন করতে গিয়ে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রায় ৬৩৫ কোটি, দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুধু তদন্তই নয়, প্রয়োজন হলে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছিল। সেই মঞ্চেই হঠাৎ করে বিজিবিএস প্রসঙ্গ তুলে আনেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘বিজিবিএস আয়োজনের নামে একটি সংস্থাকে কয়েকশো কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রয়োজনে আর্থিক তছরূপ সংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আইনগত পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হব না।’
এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বিজিবিএস দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ আহ্বান কর্মসূচী হিসেবে পরিচিত ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হত এবং রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হত। প্রতি বছরই এই সম্মেলন শেষে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষরের ঘোষণা করা হত। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক রয়েছে। বহু মউ স্বাক্ষর হলেও তার কতগুলি বাস্তবে রূপ পেয়েছে, কত টাকা সত্যিই রাজ্যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠত বারবার। এবার সেই পুরনো অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হল আর্থিক লেনদেন নিয়ে নতুন প্রশ্ন।
মুখ্যমন্ত্রী যদিও সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর মন্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে একটি নির্দিষ্ট সংস্থার দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে ওই সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা সময় আলোচনা হয়েছে। ফলে এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারি অর্থ কোথায়, কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা জানার অধিকার মানুষের রয়েছে।’ তাঁর মতে, করদাতার টাকায় আয়োজিত কোনও কর্মসূচীতে যদি অনিয়ম থেকে থাকে, তা হলে তা সামনে আনা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় বিতর্কের কারণ হতে পারে। কারণ, বিজিবিএস শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং রাজ্যের শিল্পনীতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। সেই কর্মসূচি নিয়েই যদি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তা হলে তার প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হতে পারে। তাদের বক্তব্য, বিজিবিএস রাজ্যে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এবং তার সুফল বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেটাই এখন দেখার। যদি সত্যিই কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তা হলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে বড় প্রভাব পড়তে পারে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ঘটনার আরও একটি দিক হল, নতুন সরকার নিজেদের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির বার্তা দিতে চাইছে। প্রশাসনিক খরচ ও পুরনো প্রকল্পগুলির হিসাব খতিয়ে দেখার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। তার মধ্যে বিজিবিএস নিয়ে এই অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল। আগামী দিনে এই ইস্যু ঘিরে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপরেই নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমীকরণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, West Bengal BJP Government | অগ্রাধিকারের তালিকা স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু বছর ঘুরলেই মূল্যায়নের ডাক, নতুন সরকারের এক মাসে কোন পথে এগোচ্ছে বাংলা




