সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হল ভবানীপুর (Bhabanipur) বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) -এর দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি হলফনামা দাখিল করেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর জয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভোটে ভরাডুবির পরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আদালতের দ্বারস্থ হলেন মমতা, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করেছেন মমতা। তাঁর আইনজীবী জানান, ‘নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এই আবেদন করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। আদালতের কাজ শেষ করে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
আরও পড়ুন : Aadhaar Card Update Rules: আধারে ঠিকানা-মোবাইল কতবার বদলানো যায়? UIDAI-র নিয়ম জানলে এড়াবেন ঝামেলা
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল নেত্রীর তরফে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ভোটগণনার দিন থেকেই তিনি গণনাপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘পুরো প্রক্রিয়াই একতরফা ভাবে পরিচালিত হয়েছে।’ সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন। উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম (Nandigram) কেন্দ্রে পরাজয়ের পরও একই পথে হেঁটেছিলেন মমতা। সেবারও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন তিনি। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। ফলে দ্বিতীয়বার একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনাপ্রবাহ আরও একটি কারণে আলোচনায়। গত ১৪ মে-ও হাই কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি ভোট-পরবর্তী অশান্তির মামলায় সওয়াল করতে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে সেই সময় আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। আদালত চত্বর থেকে বেরোনোর সময় তাঁর উদ্দেশ্যে স্লোগানও ওঠে। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে আবার আদালতে উপস্থিত হওয়ায় সেই স্মৃতিও ফিরে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।
ভবানীপুর মামলার পাশাপাশি রাজারহাট নিউটাউন (Rajarhat New Town) কেন্দ্র নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় (Tapas Chatterjee) নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছেন। ফলে একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, ভবানীপুর মামলা বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে উল্লেখ। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন থেকেই মমতা যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তারই আইনি রূপ এখন এই পিটিশন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ভোটলুট হয়েছে এবং আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।’ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, জনগণের রায়কে সম্মান না জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী শিবির। তবে এই বিষয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
আইন বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নির্বাচনী পিটিশনের ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ভবানীপুর মামলায় কী কী তথ্য পেশ করা হয় এবং আদালত কীভাবে তা গ্রহণ করে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মামলার শুনানি শুরু হলে একাধিক দিক সামনে আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এই মামলা কী ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে? কারণ, একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই চ্যালেঞ্জ করা। ফলে এর প্রভাব বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একদিকে মাঠের লড়াই, অন্যদিকে আদালতের লড়াই, দুই দিকেই সক্রিয় থাকতে চাইছে তৃণমূল। অন্য দিকে বিজেপিও এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইবে বলে ধারণা।
বর্তমানে নজর রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের উপর। ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটাই আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। মামলার অগ্রগতি, শুনানির তারিখ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সব কিছুই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে এই ঘটনা নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। আদালতের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : NITI Aayog meeting 2026, PM Modi Viksit Bharat 2047 | NITI Aayog বৈঠকে মোদীর বড় বার্তা: ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গড়তে রাজ্য থেকে গ্রাম সবাইকে একসঙ্গে এগোতে হবে




