সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে ওষুধের গুণমান এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপজাতীয় ওষুধ, বিশেষ করে কফ সিরাপ (Cough Syrup), বিক্রি করা যাবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক (Ministry of Health and Family Welfare) সম্প্রতি নিয়ম সংশোধন করে এই নির্দেশ জারি করেছে, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হল বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘ড্রাগস (ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ (Drugs Fifth Amendment Rules, 2026) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ড্রাগস রুলস ১৯৪৫ (Drugs Rules, 1945) -এর শিডিউল কে (Schedule K) থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এতদিন যেসব সিরাপজাতীয় ওষুধ নির্দিষ্ট শর্তে কিছু বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি পেত, সেগুলিও এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় চলে এল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘সিরাপভিত্তিক ওষুধের উপর নজরদারি বাড়ানো এবং রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।’ এর ফলে কফ সিরাপ সহ অন্যান্য তরল ওষুধ কিনতে গেলে এখন থেকে অবশ্যই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। ফার্মেসী বা ওষুধের দোকানগুলিকেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই সংশোধনের পেছনে রয়েছে গত কয়েক বছরে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কফ সিরাপ ও অন্যান্য তরল ওষুধে দূষণজনিত সমস্যার কারণে শিশু মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতেও এই ধরনের ওষুধের গুণমান নিয়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় সরকার সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে বলে জানা গিয়েছে।
শিডিউল কে (Schedule K) মূলত এমন কিছু ওষুধের তালিকা, যেগুলি উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে কিছু নিয়ম থেকে ছাড় পায়। কিন্তু সিরাপকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় এখন এই ধরনের ওষুধের উৎপাদন ও বিপণনে আরও কঠোর মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ওষুধের গুণমান নিয়ন্ত্রণে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের মতামত চেয়েছিল। সেই প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত ও আপত্তি জমা পড়ে। পরে সেগুলি বিবেচনা করে এবং ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড (Drugs Technical Advisory Board) -এর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বোর্ডই দেশের ওষুধ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়ে সর্বোচ্চ পরামর্শদাতা সংস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই সংশোধনের ফলে সিরাপজাতীয় ওষুধের উৎপাদন ও বিক্রির উপর নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে এবং ট্রেসেবিলিটি বাড়বে।’ অর্থাৎ, কোন ওষুধ কোথায় তৈরি হচ্ছে, কীভাবে বাজারে আসছে এবং কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার উপর আরও কার্যকর নজর রাখা সম্ভব হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক হওয়ায় ওষুধের অপব্যবহার কমবে এবং রোগীর সুরক্ষা বাড়বে। অন্যদিকে, গ্রামীণ বা দূরবর্তী এলাকায় চিকিৎসকের কাছে সহজে পৌঁছনো সম্ভব না হলে ওষুধ পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নির্মাতাদের এখন আরও কঠোর গুণমান নিয়ন্ত্রণ মানতে হবে এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ওষুধ বিক্রেতাদেরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনওভাবেই নিয়ম লঙ্ঘন না হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোয় এই পদক্ষেপ একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন ওষুধের গুণমান নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে, তখন ভারতের এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে। আগামী দিনে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হয় এবং বাস্তবে রোগীর সুরক্ষা কতটা বাড়ে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত বলা যায়, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্য খাতে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India UNSC permanent seat, Slovakia support India, PM Narendra Modi Europe visit | UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে স্লোভাকিয়ার সমর্থন, মোদীর সফরে বড় কূটনৈতিক সাফল্য



