G7 Summit Evian, Narendra Modi Macron meeting | জি৭ মঞ্চে মোদী-ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উষ্ণতা, ইভিয়ানে বৈশ্বিক সহযোগিতার বার্তা জোরাল করলেন প্রধানমন্ত্রী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফ্রান্সের মনোরম শহর ইভিয়ান (Evian)-এ অনুষ্ঠিত জি৭ (G7) সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হল। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সমাজমাধ্যমে করা দুইটি পোস্টে সম্মেলনের আবহ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার দিকগুলি তুলে ধরেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে (Emmanuel Macron) ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু হওয়া সেই বার্তায় উঠে এসেছে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম পোস্টে লিখেছেন, ‘Evian-এ উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।’ এই সংক্ষিপ্ত বার্তার মধ্যেই ধরা পড়েছে ভারত (India) ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তা। জি৭ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি বরাবরই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম। সেখানে আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দেশের গুরুত্বকে আরও জোরালো করে। অন্য একটি পোস্টে মোদী লিখেছেন, ‘G7 সম্মেলনে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আমরা একত্রে কাজ চালিয়ে যাব, যাতে সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের পথ সুদৃঢ় হয়।’ এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের উপর জোর দিচ্ছে ভারত। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবকল্যাণ এই তিনটি ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

জি৭ সম্মেলন সাধারণত বিশ্বের সাতটি প্রধান উন্নত অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States), যুক্তরাজ্য (United Kingdom), জার্মানি (Germany), ফ্রান্স (France), ইতালি (Italy), কানাডা (Canada) এবং জাপান (Japan)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সেই তালিকায় ভারতের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ইভিয়ানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই বিষয়গুলিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর জি৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়, তা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। অতীতে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জি৭ মঞ্চে ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত ক্রমশ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। মোদীর বার্তায় সেই দায়িত্ববোধের প্রতিফলনও দেখা গিয়েছে। তিনি যে ‘সমৃদ্ধি’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন’-এর কথা বলেছেন, তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল সমস্যার মোকাবিলায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি। জি৭ সম্মেলনে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতও নিজস্ব অবস্থান থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উপর জোর দিয়ে চলেছে। অন্য দিকে, মানবকল্যাণের প্রসঙ্গও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-পরবর্তী বিশ্বে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা এই বিষয়গুলিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মোদীর বক্তব্যে সেই দিকটিও উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, জি৭ সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ফ্রান্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে। মোদীর সমাজমাধ্যমে করা পোস্ট দু’টি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের কূটনৈতিক বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে।
ইভিয়ানের এই সম্মেলন শেষ হলেও এর প্রভাব আগামী দিনেও অনুভূত হবে। বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে যৌথ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে মোদীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ভারত এই সহযোগিতার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত।জি৭ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি এবং মোদী-ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Yoga Day India | কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মঞ্চ, ২১ জুনে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন