Bhagwant Mann controversy, Akal Takht decision | অকাল তখ্‌তের নির্দেশে মানকে ঘিরে বিতর্ক, শিখ মন্ত্রীদের বয়কট দাবিতে সরগরম পাঞ্জাব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ অমৃতসর : পাঞ্জাব (Punjab) -এর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মানকে (Bhagwant Singh Mann) কেন্দ্র করে। শিখ ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় আসন শ্রী অকাল তখ্‌ত (Akal Takht) তাঁকে ‘গুরুবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর পাঞ্জাব শাখা দাবি করেছে, শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মানের সঙ্গে কোনও ধরনের বৈঠকে বসবেন না। এমনকি সরকারি কাজেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা, কারণ এতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্য ও একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। সেটিকে ঘিরেই শিখ ধর্মীয় মহলে ক্ষোভ ছড়ায়। সোমবার অকাল তখ্‌ত আনুষ্ঠানিক ভাবে মানকে ‘গুরুবিরোধী’ বলে ঘোষণা করে। এরপরই বিজেপির পঞ্জাব নেতৃত্ব এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সামনে আনে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি কেবল সিংহ ধিলোঁ (Kewal Singh Dhillon) জানান, শিখদের কাছে অকাল তখ্‌তের নির্দেশ সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত এবং তা মেনে চলা সকলের কর্তব্য।

আরও পড়ুন : Bhabanipur election case, Mamata Banerjee High Court | ভবানীপুর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মমতা, শুভেন্দুর জয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

ধিলোঁ বলেন, ‘শ্রী অকাল তখ্‌ত আমাদের কাছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। এর উপরে আর কিছু নেই।’ তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা এবং নিঃশর্ত ভাবে ক্ষমা চাওয়া। তিনি আরও দাবি করেন, ‘অকাল তখ্‌তের নির্দেশ মান্য না করা পর্যন্ত বিজেপির শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাঁর সঙ্গে কোনও বৈঠক করবেন না।’ এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে পাঞ্জাব সরকারের উপর। তবে এই দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বাস্তবে শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কী অবস্থান নেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি কেবল ধর্মীয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্বাচনী সমীকরণও।

পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) -এর সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করছে, রাজ্যে আপ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেই কারণেই এই ধরনের ইস্যু সামনে আসছে। ধিলোঁর কথায়, ‘পঞ্জাবে মানুষের সমর্থন ক্রমশ বিজেপির দিকে বাড়ছে, যা বর্তমান সরকারের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত।’ তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একক ভাবে লড়বে এবং সরকার গঠন করবে। এই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ পঞ্জাবে ধর্ম ও রাজনীতি বহু ক্ষেত্রে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির অবস্থান রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে বলেই পরিচিত। ফলে অকাল তখ্‌তের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বা তাঁর দল আম আদমি পার্টির তরফে এই বিষয়ে এখনও বিশদ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হতে পারে। কারণ, ধর্মীয় আবেগ জড়িত থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাপ্রবাহে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক। যদি সত্যিই শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এড়িয়ে চলেন, তাহলে প্রশাসনিক কাজকর্মেও তার প্রভাব পড়তে পারে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সহায়তা বা নীতিগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, পাঞ্জাবের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। বিজেপি যেখানে নিজেদের জমি মজবুত করার চেষ্টা করছে, সেখানে আপ সরকারও নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে অকাল তখ্‌তের সিদ্ধান্ত এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে। পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এই ইস্যু কত দূর গড়ায়, তা এখন দেখার। মুখ্যমন্ত্রী মান ক্ষমা চান কি না, বা তাঁর পদত্যাগের দাবি কতটা জোর পায়, সব কিছুই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। তবে আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত, তা বলাই যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India UNSC permanent seat, Slovakia support India, PM Narendra Modi Europe visit | UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে স্লোভাকিয়ার সমর্থন, মোদীর সফরে বড় কূটনৈতিক সাফল্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন