PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর পথে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে গতি এসেছে নানা উন্নয়নমূলক স্কিমে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কিসান সম্মান নিধি, আয়ুষ্মান ভারত -এর পাশাপাশি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মৎস্যজীবী ও মাছ চাষিদের জন্য চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PM Matsya Sampada Yojana)। এই প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আগ্রহ বাড়ছে, কারণ এতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য সম্পদ যোজনা মূলত দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের একটি বড় অংশ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে ছোট ও মাঝারি চাষিরাও এই খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ শ্রেণির উপভোক্তারা মোট প্রকল্প খরচের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তফসিলি জাতি ও জনজাতি (SC/ST) এবং মহিলা উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Sanand Speech | সাণন্দে সেমিকন্ডাক্টর যুগের সূচনা: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে বৈশ্বিক বাজারে ভারতের শক্ত অবস্থান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বড় বার্তা

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে সচেতনতা শিবির শুরু হয়েছে। মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া চাষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত মৎস্যজীবীরাও এই সুবিধা নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, মাছ সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, মাছের খাবার তৈরির মিল এই সমস্ত ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীরা এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘মৎস্য খাতকে শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।’ তাঁর মতে, মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও একটি সাব-স্কিম প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিসান সমৃদ্ধি সহ-যোজনা (PM-MKSSY)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি এবং নতুন ব্যবসায়ীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে যারা ছোট পরিসরে মাছ চাষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য এটি বড় সুযোগ হয়ে উঠছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের ন্যাশনাল ফিশারিজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (National Fisheries Digital Platform) নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সরকারি মাইস্কিম (myScheme) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব। মৎস্যজীবীদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করতে কিসান ক্রেডিট কার্ড (Kisan Credit Card) -এর সুবিধাও চালু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। বছরে প্রায় ২ শতাংশ সুদের হারে ঋণ দেওয়া হয়, যা বাজারের তুলনায় অনেক কম। ১.৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনও জামানত লাগে না। সময়মতো ঋণ শোধ করলে অতিরিক্ত সুদের ছাড়ও পাওয়া যায়।

সূত্রের খবর, আবেদনকারীদের জমির কাগজপত্র, পুকুরের লিজ ডকুমেন্ট এবং পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কে সরাসরি যোগাযোগ করেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। রাজ্যের মৎস্যজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই প্রকল্প তাঁদের জীবনে নতুন দিশা আনতে পারে। নদী, পুকুর এবং জলাশয় নির্ভর জীবিকা যাঁদের, তাঁদের জন্য নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে মাছ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব রয়েছে। দেশে মাছের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। রফতানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের উপর। বিভিন্ন জেলায় ফিশারি বিভাগের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে, যাতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা যায়। রাজনৈতিক মহলেও এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু হওয়ায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে বলে মত অনেকের। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। প্রসঙ্গত, মাছ চাষ, সংরক্ষণ ও বিপণন এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা চালু হয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি মৎস্য খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PCOS new name PMOS | ‘পিসিওএস’ আর নয়, নতুন নাম ‘পিএমওএস’! হঠাৎ নাম বদলের সিদ্ধান্তে কী বদলাবে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা? জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Sasraya News
Author: Sasraya News