Best Honeymoon Places in India in Bengali | বিয়ের পর ঘুরতে যাবেন কোথায়? ভারতের ৫ স্বপ্নময় মধুচন্দ্রিমা গন্তব্য

SHARE:

Best Honeymoon Places in India in Bengali

মিলি ঘোষ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিয়ের সব আয়োজন শেষ। অতিথি বিদায় নিয়েছেন, আলো ঝলমল আয়োজন স্তিমিত হয়েছে। এখন শুধু আপনি আর আপনার প্রিয় মানুষটি। নতুন জীবনের প্রথম অধ্যায়ে এই কয়েকটি দিনই তো সবচেয়ে মূল্যবান। তাই মধুচন্দ্রিমার (Honeymoon) গন্তব্য বাছাইয়ে ভুল করলে আফসোস থেকেই যায়! শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে বা রাজকীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় যদি কাটানো যায় সেই প্রথম একান্ত সময়, তাহলে সম্পর্কের বন্ধন আরও গভীর হয়ে ওঠে। আজ জেনে নিন ভারতের (India) এমন পাঁচটি অনন্য মধুচন্দ্রিমা গন্তব্য, যেখানে প্রেম, প্রকৃতি আর প্রশান্তি মিলেমিশে একাকার।

আরও পড়ুন : Santragachi Digha train time | গরমে দিঘা ভ্রমণে বড় স্বস্তি! সাঁতরাগাছি-দিঘা পার্মানেন্ট ট্রেন চালু, জানুন সময়সূচী ও স্টপেজ

আরও পড়ুন : Travelog, Pink City | পিঙ্ক সিটি : রাজস্থানের জয়পুরে একদিন

দার্জিলিংয়ের কালেজ ভ্যালি 

‘হিমালয়ের রানি’ দার্জিলিং অনেকেরই প্রিয় গন্তব্য। কিন্তু যারা চেনা ভিড়ের বাইরে, নির্জনতার মাঝে প্রিয়জনের হাত ধরে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ কালেজ ভ্যালি। চা-বাগানের সবুজে ঘেরা এই ছোট্ট উপত্যকার নামকরণ হয়েছে এক মনোরম পাখি ‘কালিজ ফিজ্যান্ট’-এর (Kaleej Pheasant) নাম থেকে। সকালের কুয়াশা, পাখির ডাক আর পাহাড়ের গায়ে সূর্যের নরম ছোঁয়ায় দিন শুরু করলে বুঝবেন, মধুচন্দ্রিমার অর্থ কতটা আলাদা হতে পারে। এখানকার হোম-স্টেগুলির আতিথেয়তা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কাছেই রয়েছে ইন্দ্রেনি ফলস (Indreni Falls), যার রামধনুর মতো জলের রং চোখ জুড়িয়ে দেয়। নেপালি ভাষায় ‘ইন্দ্রেনি’ মানে রামধনু।
রংবুল (Rangbull) থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালেজ ভ্যালি পৌঁছতে তিন ঘণ্টা লাগে নিউ জলপাইগুড়ি (New Jalpaiguri) বা বাগডোগরা (Bagdogra) বিমানবন্দর থেকে। সময় কম থাকলে এই জায়গাটি একদম উপযুক্ত। চাইলে ঘুম বা দার্জিলিং ভ্রমণও যোগ করতে পারেন।

নির্জন সাগরপাড়ের ডাক পুরীর চন্দ্রভাগা বীচ 

পুরী মানেই ভিড়ভাট্টা, জগন্নাথ দর্শন আর রঙিন জনজীবন। কিন্তু যদি একইসঙ্গে আধ্যাত্মিকতা ও নির্জনতার ছোঁয়া চান, তাহলে চলে যান চন্দ্রভাগা বীচ। পুরী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, কোনার্কের (Konark) পথে এই সৈকতের সৌন্দর্য তুলনাহীন।এখানকার ঢেউ, সূর্যোদয় ও নীরবতা এক অন্যরকম আবেশ এনে দেয়। কুশভদ্রা নদী (Kushabhadra River) যেখানে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে, সেখানে অবস্থিত রামচণ্ডী বীচ (Ramchandi Beach) আরও মায়াময়। এখানে ওয়াটার স্কুটারে (Water Scooter) করে পৌঁছনো যায় বিস্তীর্ণ বালুচরে, যেখানে সাগরের গর্জন আর লাল কাঁকড়ার নাচ এক মায়াবী ছন্দ সৃষ্টি করে। কুশভদ্রার কাছেই আছে রামচণ্ডী মন্দির (Ramchandi Temple), যা ওড়িশার (Odisha) এক শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত। চন্দ্রভাগা ও কোনার্কের আশপাশে নানা রিসর্ট, হোটেল ও হোম-স্টে রয়েছে, যা মধুচন্দ্রিমার দম্পতিদের জন্য আদর্শ।

সমুদ্রের নীচে স্বপ্নলোক আন্দামানের জলিবয় দ্বীপ 

যদি মধুচন্দ্রিমায় প্রকৃতি আর সাগরের গভীর সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে চান, তবে আন্দামানের জলিবয় দ্বীপই হতে পারে সেরা পছন্দ। এখানে সমুদ্রের জল এতটাই স্বচ্ছ যে নিচের প্রবাল ও রঙিন মাছ খালি চোখেই দেখা যায়। জলিবয় দ্বীপ মহাত্মা গান্ধী মেরিন ন্যাশনাল পার্কের (Mahatma Gandhi Marine National Park) অন্তর্গত। ওয়ান্ডুর সৈকত (Wandoor Beach) থেকে নৌকায় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। গাছপালায় ঘেরা খাঁড়িপথ পেরিয়ে যখন পৌঁছবেন, মনে হবে কোনও সিনেমার দৃশ্যের ভেতর আছেন। এখানে ‘গ্লাস বটম বোট’ (Glass Bottom Boat) চড়ে প্রবাল আর ক্লাউন ফিশ (Clown Fish) দেখা আজীবনের অভিজ্ঞতা। পরিবেশ রক্ষার্থে এখানে প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জলিবয়ে রাতের থাকার ব্যবস্থা নেই, তবে পোর্ট ব্লেয়ারে (Port Blair) থেকে সহজেই একদিনের ট্রিপ করা যায়।

চা-সবুজে ঘেরা স্বপ্নশহর কেরলের মুন্নার 

মুন্নার এমন এক পাহাড়ি শহর, যেখানে প্রতিটি মোড়ে প্রকৃতির কবিতা। ৫২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শৈলশহরে শুধু চা-বাগানই নয়, আছে ঝর্না, নদী, ফুলের বাগান, মশলার গাছ আর শান্ত পরিবেশ। কোচি (Kochi) থেকে গাড়ি করে আসার পথে ভারালা ও আট্টুকাল জলপ্রপাত (Attukal Waterfalls) দেখতে পাবেন। মুন্নারে পৌঁছে স্থানীয় চকোলেট, আয়ুর্বেদিক স্পা ও টি মিউজিয়াম (Tea Museum) ঘুরে দেখার মতো। আর যদি অ্যাডভেঞ্চারের শখ থাকে, তাহলে এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক (Eravikulam National Park)-এ ঘুরে দেখুন বিপন্ন নীলগিরি তাহর (Nilgiri Tahr)। ডিসেম্বর-জানুয়ারির ঠাণ্ডা সময়েও এখানে আবহাওয়া স্নিগ্ধ থাকে, তাই দম্পতিদের জন্য আদর্শ সময় এটি। সব মিলিয়ে মুন্নার মানে প্রকৃতি ও প্রশান্তির নিখুঁত মেলবন্ধন।

রাজকীয় ভালবাসার শহর রাজস্থানের উদয়পুর

যদি মধুচন্দ্রিমায় ইতিহাস, রাজকীয়তা আর লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে উদয়পুরই হোক গন্তব্য। ‘হ্রদের শহর’ নামে পরিচিত এই শহরটি যেন রাজকীয় প্রেমকাহিনির পাতা থেকে উঠে আসা এক বাস্তব কল্পনা। আরাবল্লির (Aravalli Hills) বুকে ঘেরা হ্রদ, তার ধারে প্রাসাদ, দুর্গ আর হাভেলিগুলি আজও অতীতের ঐশ্বর্যের সাক্ষ্য বহন করে। সিটি প্যালেস (City Palace), লেক প্যালেস (Lake Palace), সজ্জনগড় মনসুন প্যালেস (Sajjangarh Monsoon Palace), অম্বরাই ঘাট (Ambrai Ghat) প্রতিটি স্থানেই রোমান্সের ছোঁয়া। পিছোলা হ্রদের (Pichola Lake) ধারে সূর্যাস্ত দেখা আর নৌকাবিহার এমন এক অভিজ্ঞতা, যা সারাজীবন মনে থেকে যায়। রাজস্থানি সংগীত, ঐতিহ্যবাহী খাবার আর ঝলমলে আলোয় রাতের উদয়পুর যেন প্রেমের রাজ্য।

প্রেম, প্রকৃতি ও নির্জনতা, এই তিনটি উপাদান মধুচন্দ্রিমাকে পরিণত করে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতায়। তাই বিয়ের পর গন্তব্য বাছুন হৃদয়ের টানে। সময়ের সীমা, দূরত্ব বা খরচ, কিছুই যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায় সেই ভালবাসার যাত্রায়।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : places to visit in Sasaram, Bihar travel destination | ইতিহাসের বুকছোঁয়া ডাক প্রকৃতির ছোঁয়া, উইকেন্ডে ঘুরে আসুন বিহারের লুকোনো রত্ন সাসারাম

Sasraya News
Author: Sasraya News