BSF Expanded India, Narendra Modi Security Policy | সীমান্ত পেরিয়ে শহরেও নজরদারি! মোদীর সিদ্ধান্তে বিএসএফের দায়িত্ব বাড়ছে, বদলাচ্ছে নিরাপত্তার সমীকরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় রদবদলের ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ (BSF) -এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার পথে হাঁটছে। এতদিন মূলত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীকে এবার শহরাঞ্চলসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বিএসএফ-এর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?

সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে পাকিস্তান (Pakistan) ও বাংলাদেশ (Bangladesh) সীমান্তে নিয়োজিত বিএসএফ-এর কার্যপরিধি নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রায় ৬,৩৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে নজরদারির দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীর জওয়ান সংখ্যা আড়াই লক্ষেরও বেশি। এত বড় বাহিনীকে কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় কাজে লাগানোর ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। কেন্দ্রের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সীমান্ত পাহারা দিলেই চলবে না, বরং সেই প্রভাব যাতে দেশের ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সেই কারণেই বিএসএফ-কে শহরাঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কিছু ক্ষেত্রে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি আধিকারিকের কথায়, ‘সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালালেও অপরাধচক্র অনেক সময় ভেতরের এলাকাগুলিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই জায়গাগুলিতেও সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার।’ এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শুধু সীমান্ত নয়, গোটা ব্যবস্থাকেই একটি সমন্বিত কাঠামোয় আনার চেষ্টা চলছে।

এই নতুন পরিকল্পনায় উত্তর-পূর্ব ভারতের (Northeast India) কিছু সংবেদনশীল এলাকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal), অসম (Assam), পাঞ্জাব (Punjab) এবং রাজস্থান (Rajasthan) -এর মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ এলাকাতেও বিএসএফ-কে আরও সক্রিয় করার ভাবনা রয়েছে। এতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ড্রোন নজরদারি, উন্নত সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম, রিয়েল-টাইম ডাটা শেয়ারিং, এই সব ব্যবস্থার মাধ্যমে বিএসএফ-কে আরও আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে সীমান্তে যেমন নজরদারি জোরদার হবে, তেমনই শহরাঞ্চলেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএসএফ-এর এই সম্প্রসারিত ভূমিকার ফলে প্রশাসনিক কাঠামোয়ও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথ অভিযানের সংখ্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ, জাল নথি তৈরির চক্র ভাঙা এবং সীমান্তবর্তী অপরাধ দমনে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা বাড়লে নিরাপত্তা জোরদার হবে। আবার অন্য একটি অংশের মত, রাজ্যগুলির নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে কেন্দ্রের তরফে পরিষ্কার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। একজন উচ্চপদস্থ সূত্রের মতে, ‘দেশের নিরাপত্তা এখন বহুস্তরীয়। সীমান্ত, শহর, গ্রাম, সব জায়গায় নজরদারি প্রয়োজন। সেই কারণেই বিএসএফ-এর ভূমিকা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।’ এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিএসএফ একটি আরও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে চলেছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বেশি পড়তে পারে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজরদারি কড়া হতে পারে। বর্তমানে এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) -এ বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে। প্রয়োজনে আইনগত পরিবর্তনও আনা হতে পারে, যাতে বিএসএফ নতুন দায়িত্ব পালনে কোনও বাধার মুখে না পড়ে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বলা যায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন পর্ব শুরু হতে চলেছে। সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে শহরের ভেতরেও বিএসএফ-এর উপস্থিতি নজরে আসতে পারে আগামী দিনে। এর ফলে নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলেই কেন্দ্রের আশা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BSF land West Bengal, CM Suvendu Adhikari | সীমান্তে জোরদার নজরদারি: বিএসএফ-কে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর, শীর্ষে মুর্শিদাবাদ, ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন