TMC MLA Expelled, Signature Controversy Bengal | সই-বিতর্কে তৃণমূলে ভূকম্প: মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতের পরেই বহিষ্কার ঋতব্রত ও সন্দীপন, রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধানসভায় সই-সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং সন্দীপন সাহাকে (Sandipan Saha) দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানান। ইমেল ও হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমেও তাঁদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কথা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও (Rathindra Basu) অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

ঘটনার নাটকীয়তা আরও বাড়ে, যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, সই-বিতর্কের বিষয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন এই দুই তৃণমূল বিধায়কই। তাঁর কথায়, ‘ঋতব্রত এবং সন্দীপনের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়ের করে।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর সিআইডি (CID)-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তৃণমূলের তরফে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বহিষ্কারের পরেই সরব হয়েছেন দুই বিধায়ক। সন্দীপন সাহা বলেন, ‘যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক পথে চলে, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। আমরা তো জানতাম না, হাজিরা খাতার সইকে অন্যভাবে ব্যবহার করা হবে।’ অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা শুধু বিষয়টি স্পিকারের নজরে এনেছিলাম। স্পিকার কোনও দলের প্রতিনিধি নন, তিনি গোটা বিধানসভার অভিভাবক।’ একই সঙ্গে তিনি দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের কথা জানান।

এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, বহিষ্কৃত হওয়ার পর এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসেবেই থাকবেন। ফলে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হুইপ মানার বাধ্যবাধকতা তাঁদের থাকবে না। এমনকি ভবিষ্যতের ভোটাভুটিতেও তাঁরা স্বাধীনভাবে অবস্থান নিতে পারবেন। তবে তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করার পথ সহজ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ঋতব্রতের রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। ২০১৪ সালে সিপিএম (Communist Party of India Marxist) -এর টিকিটে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালে দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরে দীর্ঘ সময় দলহীন সাংসদ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের টিকিটে আবারও সংসদের উচ্চকক্ষে যান এবং পরে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন।

এই ঘটনার পর দলীয় অন্দরে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সামাজিক মাধ্যমে পরোক্ষে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ‘ফল ঘোষণার এত তাড়াতাড়ি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। দলের ভেতরে আলোচনা করার জায়গা ছিল।’ পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘দলের প্রতীকে জিতে এসে এত দ্রুত কেন দলের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া হল?’
অন্যদিকে, সই-বিতর্কের মূল সূত্র খুঁজতে গেলে যেতে হয় গত ৬ মে-র বৈঠকে। সে দিন কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে পরিষদীয় দলের নেতা ও অন্যান্য পদাধিকারী নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay), নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayana Bandyopadhyay), অসীমা পাত্র (Asima Patra) এবং ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-এর নাম ঘোষণা করা হয়। সেই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর স্বাক্ষরিত চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ১৯ মে-র বৈঠকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সই ৬ মে-র তারিখ দেখিয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এই জায়গাতেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তদন্তে নেমে সিআইডি একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কয়েক জন দাবি করেছেন, তাঁরা ওই নির্দিষ্ট তারিখে কোনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এই বিতর্কে নাম জড়িয়েছে একাধিক নেতার। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayana Bandyopadhyay), কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি (Tapas Maity) এবং বাহারুল ইসলাম (Baharul Islam) -এর বাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছেন। বাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘৬ মে আমি কোনও বৈঠকে ছিলাম না। তদন্তকারীদেরও সেই কথাই জানিয়েছি।’

অন্যদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা কাউকে জোর করে সই করাইনি। কে কী করেছে, তা তদন্তেই সামনে আসবে।’ একই ঘটনায় সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। ঘটনার জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্ন, অন্যদিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ, এই দ্বন্দ্বে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ritabrata Banerjee Suvendu Adhikari meeting | ৪০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎেই বিতর্ক! শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক জল্পনায় কী বললেন ঋতব্রত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন