সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: গ্রামীণ ভারতের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে কর্মদিবস বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে। সোমবার জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ সংক্ষেপে ‘ভিবিজিরামজি’ (Viksit Bharat Guarantee for Rozgar and Aajeevika Mission – Gramin, VBGRMJ) আইন কার্যকর করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল লোকসভা ও রাজ্যসভা, উভয় কক্ষেই পাশ হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনও মেলে। এবার সেই আইনের বাস্তবায়নের পথে এগোল কেন্দ্র।
দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫’ (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act, MGNREGA) -এর জায়গায় নতুন কাঠামোয় আসছে ‘ভিবিজিরামজি’। নতুন আইনে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সাবালক স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের আওতায় আনার মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি ও স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরনো ব্যবস্থার থেকে নতুন ব্যবস্থায় নির্বিঘ্ন রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে’। অর্থাৎ বর্তমানে যে সমস্ত জব কার্ড রয়েছে, সেগুলি বৈধ থাকবে এবং নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। এতে করে গ্রামীণ শ্রমিকদের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল কর্মদিবস বৃদ্ধি। আগে যেখানে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে এখন তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলির হাতে বছরে আরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এতে গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং মৌসুমি বেকারত্ব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (Direct Benefit Transfer, DBT) -এর মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। এর ফলে মধ্যবর্তী স্তরে অনিয়ম বা বিলম্ব কমবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হলে শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণের অধিকারী হবেন, এমন বিধানও রাখা হয়েছে আইনে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party, BJP) -এর বড় জয়ের পরেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর বার্তা পৌঁছে দিতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নতুন প্রকল্পে শুধু কর্মসংস্থান নয়, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জল সংরক্ষণ, কৃষি সহায়ক কাজ এবং স্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমুখী উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে, ‘গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য’। একই সঙ্গে গ্রামভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে শহরমুখী অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ গ্রামীণ বাজারে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, কৃষি ও গ্রামীণ পরিষেবা খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। প্রতিটি রাজ্যকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। নতুন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্র যে গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। এখন দেখার, বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রকল্প কতটা সফল হয় এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা




