সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হাবড়া ২৭ এপ্রিল ২০২৬ : দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় একটি বুথের ভিতর থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই গোটা এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাবড়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কারা এই বিস্ফোরকগুলি লুকিয়ে রেখেছিল, কী উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন :
আরও পড়ুন : দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে প্রচার থামল, ১৪২ আসনে ৩.২১ কোটি ভোটার ঠিক করবেন ভাগ্য
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সূত্র এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত নজরদারি, ওয়েবকাস্টিং (Webcasting), এবং বুথভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এক কর্তার বক্তব্য, “ভোটারদের নিরাপত্তা এবং অবাধ ভোটদান নিশ্চিত করতে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে মুর্শিদাবাদ এবং বসিরহাট (Murshidabad, Basirhat) সহ একাধিক এলাকায় বোমাবাজি এবং সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে হাবড়ার এই ঘটনা দ্বিতীয় দফার আগে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, গোটা রাজ্যে আগাম তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভোটকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক কীভাবে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হল। প্রশাসনের নজরদারিতে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “ভোট দিতে গেলে নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি বুথের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিশ্চিন্তে ভোট দেবেন?”
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি (BJP) অভিযোগ তুলেছে, এটি শাসক দলের ‘গুন্ডারাজ’-এর ফল। দলের এক নেতার দাবি, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে, তারই প্রমাণ এই ঘটনা।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, এটি বিরোধীদের চক্রান্ত হতে পারে। দলের এক মুখপাত্রের বক্তব্য, “ভোটের আগে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।” তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। কমিশনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা রুখতে আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি (Intelligence Surveillance) এবং স্থানীয় স্তরে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী



