Global Food Crisis 2026, Global Report on Food Crisis | বিশ্ব খাদ্য সঙ্কট : রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে উদ্বেগ, ১০ দেশেই দুই-তৃতীয়াংশ অনাহার, ভারতের চার প্রতিবেশী তালিকায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বিশ্ব জুড়ে খাদ্য সঙ্কটের (Global Food Crisis 2026) ছায়া ক্রমশই গাঢ় হচ্ছে। অনাহার ও অপুষ্টির প্রকোপ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আগামী সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করল রাষ্ট্রপুঞ্জ (United Nations)। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ (Global Report on Food Crisis) শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ খাদ্য সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এবং এতে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের মোট অনাহারগ্রস্ত মানুষের একটি বড় অংশ মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত। ওই দেশগুলিতেই বসবাস করেন বিশ্বে খাদ্য সঙ্কটে ভোগা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। তালিকায় ভারতের চার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (Pakistan), আফগানিস্তান (Afghanistan), বাংলাদেশ (Bangladesh) এবং মায়ানমার (Myanmar) থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন : BJP Foundation Day, Narendra Modi speech | বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদীর বার্তা, কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা

এই তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ডিআর কঙ্গো (DR Congo), নাইজেরিয়া (Nigeria), দক্ষিণ সুদান (South Sudan), সুদান (Sudan), সিরিয়া (Syria) এবং ইয়েমেন (Yemen)। এই দেশগুলির অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, গৃহযুদ্ধ বা সন্ত্রাসের কবলে রয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য সঙ্কট এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে, যা শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের ফল।’ এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের পরিমাণ কমে যাওয়াও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু দেশেই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সীমিত হয়ে পড়ছে।

গত বছরের প্রতিবেদনে সুদান এবং গাজা (Gaza) অঞ্চলকে দুর্ভিক্ষপীড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। চলতি বছরের রিপোর্টেও সেই অঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বরং নতুন করে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি খাদ্য সঙ্কটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে। চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমছে, যা খাদ্যদ্রব্যের দামের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পক্ষে খাদ্য সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

চলতি মাসের গোড়াতেই আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (International Monetary Fund), বিশ্ব ব্যাঙ্ক (World Bank) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (World Food Programme) বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, জ্বালানি সঙ্কট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এই সমস্যাকে আরও গভীর করছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা, এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় খাদ্য সঙ্কটের প্রভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে।’ বিশেষত, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, বন্যা এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্যের জোগান কমে যাচ্ছে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা খাদ্য সঙ্কটকে বাড়িয়ে তুলছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার চাপ ও জলবায়ুজনিত সমস্যা খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে, মায়ানমারে চলমান সংঘাত কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর নীতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দরিদ্র মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কটের এই চিত্র মানবসভ্যতার সামনে এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও খাদ্যের অভাব যে এখনও কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ, এই প্রতিবেদন তা নতুন করে সামনে আনল। আগামী দিনে এই সঙ্কট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার উপর নির্ভর করবে বিশ্বের বৃহৎ অংশের মানুষের ভবিষ্যৎ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Haldia speech 2026, West Bengal Assembly Election news | হলদিয়ায় মোদীর হুঙ্কার: ‘নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর, বাংলায় আসছে পরিবর্তনের হাওয়া’ ভোটের মঞ্চে ছয় গ্যারান্টির বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন